সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

মানব সভ্যতা কী?

মানব সভ্যতা কী? ‘মানব সভ্যতা’ হল একটি বিশ্বব্যাপী জীবন ব্যবস্থা, যা মানুষের দ্বারা প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়। এই জীবন ব্যবস্থা মোটামুটি পাঁচটি অংশ দ্বারা গঠিত। এগুলো হল সমাজ, অর্থনীতি, রাজনীতি, সংস্কৃতি ও ধর্ম। কারণ, এই পাঁচটি অংশ (ব্যবস্থা) মানুষের জীবনকে প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে নিয়ন্ত্রিন ও পরিচালনা করে।  সুতরাং মানব সভ্যতা বলতে মানুষের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক,সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতির এমন একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়াকে বোঝায়, যেখানে মানুষের জীবন উত্তরোত্তর উন্নত, সংগঠিত এবং নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বিকশিত হয়। অর্থাৎ এক কথায় মানব সভ্যতা হল মানুষের জ্ঞান, শিক্ষা, নৈতিকতা, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় মূল্যবোধ বিকাশের ফল। সহজভাবে বলতে গেলে, মানুষ যখন দলবদ্ধভাবে বসবাস করতে শুরু করে এবং তাদের জীবনযাত্রায় শৃঙ্খলা, নিয়মকানুন, কৃষি, ভাষা, লিখন পদ্ধতি, শিল্পকলা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মতো বিষয়গুলো বিকশিত হতে থাকে, তখন তাকে সভ্যতা বলা হয়। আর এগুলোর ওপর ভিত্তি করে যখন মানুষের জীবন ব্যবস্থা অগ্রগতির (বিবর্তনের) পথে গতিশীল থাকে তখন সেই জীবন...

ইতিহাস কী?

ইতিহাস কী? ইতিহাস হচ্ছে মানুষের তৃতীয় নয়ন। এই তৃতীয় নয়ন মানুষকে অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ বিষয়ে সঠিকভাবে পর্যবেক্ষণ করতে সাহায্য করে। এই পর্যবেক্ষণই জগত এবং জীবনের প্রকৃত সত্য উপলব্ধি করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। একজন মানুষ, জগত ও জীবন সম্পর্কে  প্রকৃত সত্য যতটা উপলব্ধি করতে পারেন, তিনি ততটাই শিক্ষিত বলে বিবেচিত হন। তাই ইতিহাস জানা এবং বোঝা ছাড়া একজন মানুষ পূর্ণাঙ্গ শিক্ষিত হয়ে উঠতে পারেন না। ইতিহাস কেন তৃতীয় নয়ন? একটা উদাহরণ নেওয়া যাক। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কথা ধরুন। আমরা এই ঘটনাকে যখন প্রত্যক্ষ করি, তখন দেখি দুটি ভিন্ন ধর্মের মানুষ পরস্পর পরস্পরের বিরুদ্ধে সহিংস হয়ে উঠছে। আমরা খুব সহজেই এই ঘটনাকে ধর্মের সঙ্গে জুড়ে দিই এবং ধর্মকে এর কারণ হিসেবে চিহ্নিত করি। ধর্মীয় বিদ্বেষের ফল হিসেবে সেগুলোকে ব্যাখ্যা করি। কিন্তু সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ইতিহাসকে কার্যকারণ সম্পর্কের উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, এই দাঙ্গাগুলোর পিছনে ধর্মের চেয়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উদ্দেশ্য খুবই শক্তিশালী ভূমিকায় রয়েছে। অর্থাৎ মূলত, ...

রাজতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক শাসব্যবস্থায় রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ের সাধারণ মানুষের অবস্থা

রাজতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে সেনা বা শাসকের জীবন বিপন্ন হত। সাধারণ মানুষের জীবন বাজি রাখা হত না। এখন ঘটে উল্টো। অর্থাৎ গণতান্ত্রিক শাসব্যবস্থায় রাজনৈতিক নেতা বা শাসক নিরাপদ থাকে, বিপন্ন হয় সাধারণ মানুষের জীবন।

কোরআন বাংলায় পড়ার প্রয়োজন কেন

কোরআন না পড়ে তথাকথিত আলেম ও হুজুরদের কথা মত ধর্ম পালন করতে গেলে নবীজির সম্মান বাড়বে না বরং নষ্ট হবে। অনুগ্রহ একটু বাংলায় কোরআন পড়ার অভ্যাস করুন। প্রসঙ্গ জানতে এখানে ক্লিক করুন 

শিক্ষা ও লেখাপড়ার মধ্যে সম্পর্ক কী?

শিক্ষা ও লেখাপড়ার মধ্যে সম্পর্ক কী? শিক্ষা হল একটি চলমান প্রক্রিয়া। এর শেষ হয় না। কিন্তু লেখাপড়া শেষ হয়। সর্বোচ্চ ডিগ্রি প্রাপ্তির মাধ্যমে তার সমাপ্তি ঘটে। তাই লেখাপড়া জানা মানুষ যে মাত্রই পূর্নমত্রায় শিক্ষিত হবেন, তা কখনই দায়িত্ব নিয়ে বলা যায় না। লেখাপড়া শেষ করে তাই প্রত্যেক মানুষকে পড়াশোনা শুরু করতে হয়। এটা না করলে, একজন মানুষ লেখাপড়ার মাধ্যমে যে শিক্ষা অর্জন করেছেন, তা ক্রমশ হারাতে থাকেন। একটা সময় গিয়ে সে ‘তথাকথিত শিক্ষিত’ মানুষে রূপান্তরিত হয়ে যাবে। শিক্ষিত হওয়ার এই প্রক্রিয়া মৃত্যুর মুহূর্ত পর্যন্ত চলমান থাকে। কারণ,  ১) এই সময়কালের মধ্যে মানুষ তার জানা বিষয়ের মধ্যে থেকে এমন কিছু উপলব্ধি নতুনভাবে করতে পারে, যা সে এর পূর্বে করেনি। ২) প্রতি মুহূর্তে পৃথিবীতে ঘটে চলেছে নানান পরিবর্তন। সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সর্বোপরি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ে নতুন নতুন গবেষণা ও আবিষ্কার জানা বোঝার জগতকে পাল্টে দেয়। এই পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে খাপ খাওয়াতে (অর্থাৎ আপডেট করতে) না পারলে একজন লেখাপড়া জানা মানুষও আস্তে আস্তে শিক্ষাহীন মানুষে স্তরে নেমে আসতে বাধ্য হয়।...

কোন পশু কুরবানী করা উচিৎ

বনের পশুর চেয়ে মনের পশুর কুরবানী অনেক বেশি জরুরি।

ধর্ম ও বিজ্ঞানের পার্থক্য

বিজ্ঞান অর্থ বিশেষ জ্ঞান। বিশেষ জ্ঞান হল সেই জ্ঞান যা অলংঘনীয়। এটাকেই আবার অন্যভাবে বলা হয় প্রাকৃতিক নিয়ম। একজন শিক্ষিত মানুষের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো তিনি এই প্রাকৃতিক নিয়মগুলো জানেন, বোঝেন এবং মেনে চলেন। যারা এটা মেনে চলেন না বা বোঝেন না তারা লেখাপড়া শিখতে পারেন কিন্তু শিক্ষিত হয়ে উঠতে পারেননি। ধর্ম এ ধরনের কোনো বিশেষ জ্ঞান বা বিজ্ঞান নয়। অর্থাৎ প্রাকৃতিক নিয়ম নয়। এটা একটা সামাজিক নিয়ম বা বিধি যার ভিত্তি বিশ্বাস। এগুলো মেনে চললে কখনও কখনও মানুষের সমাজ জীবন ও ব্যক্তিজীবন অনেকটাই সুশৃঙ্খলিত হয়। জীবনযাত্রার মান কোন কোন ক্ষেত্রে বাড়ে। এই ইতিবাচক ফলাফল কেবল তখনই লক্ষ্য করা যায়, যখন এই বিধিবিধানগুলির সঙ্গে প্রাকৃতিক নিয়মের সামঞ্জস্য থাকে। তবে এই ধর্ম সেই ধর্ম নয়, যা প্রাতিষ্ঠানিক বা আচার-বিচার সর্বস্ব।

কার লাভ, কার ক্ষতি। ভেবে দেখুন মহামতি

রাষ্ট্রের সম্পদ (শিল্প-কারখানা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান) মানে জনগণের সম্পদ। তা যেমন আমার, তেমন একজন রিকশাচালকেরও। সেখানকার আয় ও শিক্ষা পরোক্ষভাবে আমরা সবাই লাভ করি। কখনও ভর্তুকি হিসেবে, আবার কখনো সামাজিক প্রকল্প হিসেবে। কিন্তু সেই সম্পদ যদি চলে যায় ধনিক বণিকদের হাতে, তবে তা কেবল তার (ধনিক ও বনিক শ্রেণির) সম্পত্তি হয়ে গেল।  তার লাভ খাবে কে? খুব সহজ উত্তর। খাবে কেবল ধনিক আর বনিক শ্রেণির মানুষ নিজেরাই। আপনি কি একথা বোঝেন? বুঝলে আপনার লাভ। না বুঝলে দেশের ধনিক ও বণিকদের লাভ। বনিকের টাকায় ভোটে জিতে আপনার সম্পত্তি (দেশের সম্পত্তি) বণিকদের হাতে তুলে দেবে। এতে অবাক হওয়ার কী কিছু আছে? না নেই। আর এই কারণেই একশ্রেণির রাজনৈতিক দল আপনার কাছ থেকে চাঁদা নেয় না রাজনৈতিক ফান্ডের জন্য। নেয় ধনিক ও বনিক শ্রেণির কাছ থেকে। আমি আপনি ভাবি দলগুলো কী ভালো, কী ভালো। আমাদের কাছ থেকে চাঁদা নেয় না। বোঝেন আপনি? বুঝলে আপনার লাভ। না বুঝলে দেশের ধনিক ও বণিকদের (কর্পোরেটদের) লাভ।  আমরা বোকা এবং অর্ধ-শিক্ষিত বলেই এই সত্য বুঝতে পারিনা। দেখুন ফেসবুক পেজে: এখানে ক্লিক করুন 
ধর্মান্ধ আর ধর্মবিদ্বেষী। একই মুদ্রার দুই পিঠ। সমাজের জন্য উভয়ই ভয়ংকর ক্ষতিকারক।

আলী হোসেনের বহুল-পঠিত উক্তিগুলো পড়ুন