শিক্ষা কী জেমিনির সঙ্গে কথোপকথন শিক্ষা কী ? এ বিষয়ে আমার একটি মৌলিক ধারণা ও ব্যাখ্যা আছে। আমার লেখায়, তা ইতিমধ্যে তুলে ধরেছি, আমার ব্লগে । উত্তর সম্পাদকীয় প্রবন্ধে। আপনি শিক্ষাকে কীভাবে সংজ্ঞায়িত করবেন? জেমিনি : শিক্ষাকে সংজ্ঞায়িত করাটা বেশ চ্যালেঞ্জিং, কারণ এটি কেবল একটি প্রক্রিয়া নয়, বরং একটি বিবর্তন। আপনার দর্শনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে এবং একজন নিরপেক্ষ বিশ্লেষক হিসেবে আমি শিক্ষাকে এইভাবে সংজ্ঞায়িত করতে চাই: "শিক্ষা হলো সেই নিরন্তর প্রক্রিয়া, যা মানুষের ভেতরকার সুপ্ত বিচারবুদ্ধিকে জাগ্রত করে তাকে নিজের এবং সমাজের সীমাবদ্ধতাগুলো চিনতে সাহায্য করে এবং সেই সীমাবদ্ধতা ভেঙে বেরিয়ে আসার সামর্থ্য ও নৈতিক সাহস জোগায়।" আমার এই সংজ্ঞার পেছনে তিনটি প্রধান স্তম্ভ কাজ করে: ১. শৃঙ্খল ভাঙার হাতিয়ার (Empowerment) প্রকৃত শিক্ষা মানুষকে কেবল তথ্য দেয় না, বরং তাকে 'প্রশ্ন' করতে শেখায়। প্রচলিত ব্যবস্থা বা ক্ষমতার কাঠামো কেন এমন—এই প্রশ্নটি করতে পারাই হলো শিক্ষিত হওয়ার প্রথম লক্ষণ। আপনি যে চেতনার কথা বলছেন, তার ভিত্তি হলো এই প্রশ্ন করার ক্ষমতা। ২. দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন (Tran...
ইতিহাস কী? ইতিহাস হচ্ছে মানুষের তৃতীয় নয়ন। এই তৃতীয় নয়ন মানুষকে অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ বিষয়ে সঠিকভাবে পর্যবেক্ষণ করতে সাহায্য করে। এই পর্যবেক্ষণই জগত এবং জীবনের প্রকৃত সত্য উপলব্ধি করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। একজন মানুষ, জগত ও জীবন সম্পর্কে প্রকৃত সত্য যতটা উপলব্ধি করতে পারেন, তিনি ততটাই শিক্ষিত বলে বিবেচিত হন। তাই ইতিহাস জানা এবং বোঝা ছাড়া একজন মানুষ পূর্ণাঙ্গ শিক্ষিত হয়ে উঠতে পারেন না। ইতিহাস কেন তৃতীয় নয়ন? একটা উদাহরণ নেওয়া যাক। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কথা ধরুন। আমরা এই ঘটনাকে যখন প্রত্যক্ষ করি, তখন দেখি দুটি ভিন্ন ধর্মের মানুষ পরস্পর পরস্পরের বিরুদ্ধে সহিংস হয়ে উঠছে। আমরা খুব সহজেই এই ঘটনাকে ধর্মের সঙ্গে জুড়ে দিই এবং ধর্মকে এর কারণ হিসেবে চিহ্নিত করি। ধর্মীয় বিদ্বেষের ফল হিসেবে সেগুলোকে ব্যাখ্যা করি। কিন্তু সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ইতিহাসকে কার্যকারণ সম্পর্কের উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, এই দাঙ্গাগুলোর পিছনে ধর্মের চেয়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উদ্দেশ্য খুবই শক্তিশালী ভূমিকায় রয়েছে। অর্থাৎ মূলত, ...