বামপন্থীদের ব্যর্থতার কারণ ও তাদের করণীয় কী? ১) আমাদের উপর জনগণ আস্থা রাখতে পারেনি কেন? ক) বামপন্থী নীতি কী, আদর্শ কী, কীভাবে এই নীতি সাধারণ ফেটে খাওয়া মানুষ এবং মধ্যবিত্তের সত্যিকার উপকার করতে পারে তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানো যায়নি। খ) সাধারণ মানুষের কাছে বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে ডানপন্থী রাজনীতির যে পার্থক্য রয়েছে সেটা পরিষ্কার নয়। গ) গদি মিডিয়ার প্রোপাগান্ডা মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। এই মিথ্যা প্রপাগান্ডার কাউন্টার করার ক্ষেত্রে আমাদের প্রচন্ড ঘাটতি রয়েছে। ঘ) তৃণমূল স্তরে ইয়াং জেনারেশনের (যারা কম লেখাপড়া জানেন কিংবা প্রায় জানেন না) কাছে আমাদের ভাবনা তেমন ভাবে পৌঁছাতে পারিনি। আমাদের মিছিলে তাদেরকে সেভাবে হাঁটাতে পারিনি। ঙ) হিন্দু-মুসলিম মেরুকরণ তীব্র আকার ধারণ করেছে এবার। এই মেরুকরণকে আটকানোর গুরুত্ব সম্পর্কে আমাদের মধ্যে অস্পষ্টতা আছে। এটা আটকাতে না পারলে আমাদের আন্দোলনের প্রভাব এবং তার ফলাফল যে বিজেপির ঝুলিতে যাবে এবং এর ফলাফল বামপন্থীদের জন্য যে ভয়ংকর হবে—এ সম্পর্কে তৃণমূল স্তরের নেতা কর্মীদের চেতনায় ঘাটতি আছে।ফলে এই মেরুকরণের বিরুদ্ধে কোন কাউন্টার প্রচার যুক্তি ও তথ্য...
ধর্মের নামে রাজনীতিই প্রমাণ করে আমরা মধ্যযুগীয় ভারতবর্ষে এখনও যে ধর্মের নামে রাজনীতি হয় বা হচ্ছে, তাতেই প্রমাণ হয় আমরা আধুনিক নয়, চিন্তায়-চেতনায় এখনো মধ্যযুগে বাস করি। কারণ, আধুনিক যুগের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য আছে। কোন জাতি, নিজেকে আধুনিক বলে দাবি করতে চাইলে, এই বৈশিষ্ট্যগুলো তাদের মধ্যে থাকা প্রয়োজন। এর মধ্যে একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো হল ধর্ম-মুক্ত রাজনীতি। পৃথিবীর যেখানে যেখানে রাজনীতি ধর্মমুক্ত হয়েছে, সেখানে সেখানে রাজনৈতিক হিংসা হানাহানি অনেক কমে গেছে। প্রতিষ্ঠিত হয়েছে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা, যা আধুনিকতার দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর দিকে তাকালেই বুঝতে পারা যায় ধর্মের সঙ্গে রাজনীতি সম্পর্কিত থাকলে কি ভয়ংকর রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়। বোঝা যায়, কীভাবে নিরবিচ্ছিন্ন অস্থিরতা ও রাজনৈতিক হিংসা এবং প্রতিহিংসার দাপটে একটা জাতি শতধাবিভক্ত হয়ে পড়ে। মূলত এ কারণেই, অসংখ্য ছোট ছোট, বলা ভালো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাষ্ট্রে বিভক্ত হয়ে পড়েছে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য। ফলে সাম্রাজ্যবাদী বৃহৎ রাষ্ট্রগুলোর নয়া সাম্রাজ্যবাদী নাগপাশ ...