সাম্প্রদায়িক কারা এবং কেন লেখাপড়া জানা তথাকথিত শিক্ষিতরাই (প্রকৃত শিক্ষিত মানুষ কখনো সাম্প্রদায়িক হতে পারে না) বেশি সাম্প্রদায়িক হয়। এবং এরাই লেখাপড়া না জানা সরল-সিধা কিছু মানুষকে সাম্প্রদায়িক করে তোলে ভুল বুঝিয়ে, তাদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য। এরাই বিজেপির সম্পদ। দেশের অধিকাংশ মানুষ অসাম্প্রদায়িক। বিজেপির সর্বোচ্চ ৩৭% ভোট পাওয়ার বিষয়টি এ কথাই প্রমাণ করে। এই বিষয়টি উপমহাদেশের মুসলিমদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য একই রকম ভাবে।
ইতিহাস কী? ইতিহাস হচ্ছে মানুষের তৃতীয় নয়ন। এই তৃতীয় নয়ন মানুষকে অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ বিষয়ে সঠিকভাবে পর্যবেক্ষণ করতে সাহায্য করে। এই পর্যবেক্ষণই জগত এবং জীবনের প্রকৃত সত্য উপলব্ধি করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। একজন মানুষ, জগত ও জীবন সম্পর্কে প্রকৃত সত্য যতটা উপলব্ধি করতে পারেন, তিনি ততটাই শিক্ষিত বলে বিবেচিত হন। তাই ইতিহাস জানা এবং বোঝা ছাড়া একজন মানুষ পূর্ণাঙ্গ শিক্ষিত হয়ে উঠতে পারেন না। ইতিহাস কেন তৃতীয় নয়ন? একটা উদাহরণ নেওয়া যাক। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কথা ধরুন। আমরা এই ঘটনাকে যখন প্রত্যক্ষ করি, তখন দেখি দুটি ভিন্ন ধর্মের মানুষ পরস্পর পরস্পরের বিরুদ্ধে সহিংস হয়ে উঠছে। আমরা খুব সহজেই এই ঘটনাকে ধর্মের সঙ্গে জুড়ে দিই এবং ধর্মকে এর কারণ হিসেবে চিহ্নিত করি। ধর্মীয় বিদ্বেষের ফল হিসেবে সেগুলোকে ব্যাখ্যা করি। কিন্তু সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ইতিহাসকে কার্যকারণ সম্পর্কের উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, এই দাঙ্গাগুলোর পিছনে ধর্মের চেয়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উদ্দেশ্য খুবই শক্তিশালী ভূমিকায় রয়েছে। অর্থাৎ মূলত, ...