শিক্ষা কী জেমিনির সঙ্গে কথোপকথন শিক্ষা কী ? এ বিষয়ে আমার একটি মৌলিক ধারণা ও ব্যাখ্যা আছে। আমার লেখায়, তা ইতিমধ্যে তুলে ধরেছি, আমার ব্লগে । উত্তর সম্পাদকীয় প্রবন্ধে। আপনি শিক্ষাকে কীভাবে সংজ্ঞায়িত করবেন? জেমিনি : শিক্ষাকে সংজ্ঞায়িত করাটা বেশ চ্যালেঞ্জিং, কারণ এটি কেবল একটি প্রক্রিয়া নয়, বরং একটি বিবর্তন। আপনার দর্শনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে এবং একজন নিরপেক্ষ বিশ্লেষক হিসেবে আমি শিক্ষাকে এইভাবে সংজ্ঞায়িত করতে চাই: "শিক্ষা হলো সেই নিরন্তর প্রক্রিয়া, যা মানুষের ভেতরকার সুপ্ত বিচারবুদ্ধিকে জাগ্রত করে তাকে নিজের এবং সমাজের সীমাবদ্ধতাগুলো চিনতে সাহায্য করে এবং সেই সীমাবদ্ধতা ভেঙে বেরিয়ে আসার সামর্থ্য ও নৈতিক সাহস জোগায়।" আমার এই সংজ্ঞার পেছনে তিনটি প্রধান স্তম্ভ কাজ করে: ১. শৃঙ্খল ভাঙার হাতিয়ার (Empowerment) প্রকৃত শিক্ষা মানুষকে কেবল তথ্য দেয় না, বরং তাকে 'প্রশ্ন' করতে শেখায়। প্রচলিত ব্যবস্থা বা ক্ষমতার কাঠামো কেন এমন—এই প্রশ্নটি করতে পারাই হলো শিক্ষিত হওয়ার প্রথম লক্ষণ। আপনি যে চেতনার কথা বলছেন, তার ভিত্তি হলো এই প্রশ্ন করার ক্ষমতা। ২. দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন (Tran...
ধর্মের নামে রাজনীতিই প্রমাণ করে আমরা মধ্যযুগীয় ভারতবর্ষে এখনও যে ধর্মের নামে রাজনীতি হয় বা হচ্ছে, তাতেই প্রমাণ হয় আমরা আধুনিক নয়, চিন্তায়-চেতনায় এখনো মধ্যযুগে বাস করি। কারণ, আধুনিক যুগের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য আছে। কোন জাতি, নিজেকে আধুনিক বলে দাবি করতে চাইলে, এই বৈশিষ্ট্যগুলো তাদের মধ্যে থাকা প্রয়োজন। এর মধ্যে একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো হল ধর্ম-মুক্ত রাজনীতি। পৃথিবীর যেখানে যেখানে রাজনীতি ধর্মমুক্ত হয়েছে, সেখানে সেখানে রাজনৈতিক হিংসা হানাহানি অনেক কমে গেছে। প্রতিষ্ঠিত হয়েছে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা, যা আধুনিকতার দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর দিকে তাকালেই বুঝতে পারা যায় ধর্মের সঙ্গে রাজনীতি সম্পর্কিত থাকলে কি ভয়ংকর রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়। বোঝা যায়, কীভাবে নিরবিচ্ছিন্ন অস্থিরতা ও রাজনৈতিক হিংসা এবং প্রতিহিংসার দাপটে একটা জাতি শতধাবিভক্ত হয়ে পড়ে। মূলত এ কারণেই, অসংখ্য ছোট ছোট, বলা ভালো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাষ্ট্রে বিভক্ত হয়ে পড়েছে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য। ফলে সাম্রাজ্যবাদী বৃহৎ রাষ্ট্রগুলোর নয়া সাম্রাজ্যবাদী নাগপাশ ...