নির্বাচন ২০২৬ ও বামপন্থীদের ভাবনার বিশ্লেষণ মানুষ, বিশেষ করে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণি তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে ভীষণভাবে ক্ষুব্ধ। খুব্ধ হওয়ার নিশ্চিত কিছু কারণও রয়েছে। এই কারণে মধ্যবিত্ত শ্রেণি তৃণমূলের পক্ষ ত্যাগ করার কথা ভাবছে। ফলে বামপন্থীদের সমর্থন বাড়ছে। অন্য দিকে এই সুযোগে বিজেপিও ক্ষমতায় আসার স্বপ্ন দেখছে। এভাবে বামপন্থীরা যদি তাদের হারানো ভোট ফিরে পেতে শুরু করে, যা তৃণমূলের দিকে গিয়েছিল, তাহলে তৃণমূল সরকার বিপদে পড়বে। সুতরাং সরকারি দল তৃণমূল খুব ভালো জায়গায় নেই। তবে হারবেই একথা নিশ্চিত করতে হলে বামপন্থীদের গুরুদায়িত্ব নিতে হবে। সে বিষয়ে পরে আসছি। তৃণমূলের একমাত্র ভরসা খেঁটে খাওয়া মানুষের সেই অংশ, যারা শিক্ষা-দীক্ষায় এগোতে পারছেন না, মানুষ হিসেবে তাদের অধিকার কতটা, সে সম্পর্কে যাদের সম্যক ধারণা বা চেতনা নেই, তারা। এই শ্রেণির মানুষের কাছে বিভিন্ন প্রকার ভাতা পাওয়াটা, তাদের ‘চাওয়ার’ চেয়েও অনেক ‘বেশি পাওয়ার’ সামিল। একথা অত্যন্ত সঠিক যে, ভাতা পাওয়াটা খেটে খাওয়া মানুষের অধিকার। কিন্তু এই পাওয়ার অর্থ এটা নয় যে, এই অধিকারের অজুহাতে দুর্নীতিকে তাদের মেনে নিতে হবে, শিক্...
সরকারি অনুদান ও গরিব মানুষের কর্তব্য : সরকারি অনুদান পাওয়া গরীব ও নিম্নবিত্ত মানুষের হক। কিন্তু তা কখনও দূর্নীতি ও সজনপোষণে স্বীকৃতি দেওয়ার বিনিময়ে নয়। হক কেন? সম্পদের আসল মালিক : হক কেন বলছি? বলছি এই কারণে যে, প্রকৃতপক্ষে পৃথিবীর সমস্ত সম্পদের প্রকৃত মালিক হচ্ছেন খেটে খাওয়া মানুষ। কারণ, তাদের মেধা ও শ্রমের বিনিময়েই পৃথিবীতে প্রথম সম্পদের জন্ম হয়েছে। এখনও সেভাবেই হয়। একদলা মাটি থেকে ইট তৈরি হওয়া, তা দিয়ে মামুলি কোন বাড়ি কিংবা প্রাসাদের মত পার্লামেন্ট ভবন, কিংবা মোটা চালের ভাত থেকে সরু বাসমতি চালের উৎপাদন—এক কথায় মানুষের বেঁচে থাকার, ভালো থাকার সমস্ত উপকরণ তৈরিতে যার শ্রম ও মেধার কোন বিকল্প নেই, তিনি হচ্ছেন এই শ্রমজীবী মানুষ। অথচ এই সম্পদের স্রষ্টা যারা, তারাই কখনও বিনা চিকিৎসায় মরেন, কখনও না খেয়ে মরেন। কখনও আবার আধপেটা খেয়ে অথবা অখাদ্য-কুখাদ্য খেয়ে ধুকে ধুকে মরেন। এর থেকে মুক্তি পাওয়া দিন দিন অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠছে। আর এই অবস্থা যে সৃষ্টি করা যাচ্ছে, তার কারণ হল— ১) এই শ্রমজীবী মানুষের অজ্ঞতা। ২) প্রচলিত রাষ্ট্রব্যবস্থার আড়ালে লুকিয়ে রাখা কৌশলী শোষণ নীতি। ৩) এই নীতিক...