প্রায় সব মানুষই ভাবে, তার জীবনের সমস্যাটাই পৃথিবীর সব মানুষের সব সমস্যার চেয়েও বড় সমস্যা। এমন ভাবার কারণ হল, এক-জীবন সময়টা এত ছোট যে তা দিয়ে লক্ষ লক্ষ বছর ধরে বিবর্তিত হয়ে আসা মানবজীবন ও তার মনস্তত্ত্ব বুঝতে পারা প্রায় অসম্ভব। ফলে আমাদের এই জীবনের ক্ষুদ্র পরিসরে এ বিশাল জগৎ ও জীবন জুড়ে যে জটিলতা বর্তমান তা বুঝতে পারাও প্রায় অসম্ভব। তবু আমরা চেষ্টা করি বোঝার। বুঝতে বুঝতে এমন একটা সময় আসে যখন আমার মনে হয় যে, এখন আমি সব বুঝতে শিখেছি। এটা একটা মারাত্মক ভ্রান্তি। এই ভ্রান্তিই আমাদের ভুলিয়ে রাখে যে, জীবনের শেষ ক্ষণে এসেও জগৎ ও জীবন সম্পর্কিত শিক্ষার শেষ হয়েছে ভাবাটা মস্ত বড় বোকামি। People's-perceptions-of-their-own-problems People's perceptions of their own problems
ইতিহাস কী? ইতিহাস হচ্ছে মানুষের তৃতীয় নয়ন। এই তৃতীয় নয়ন মানুষকে অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ বিষয়ে সঠিকভাবে পর্যবেক্ষণ করতে সাহায্য করে। এই পর্যবেক্ষণই জগত এবং জীবনের প্রকৃত সত্য উপলব্ধি করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। একজন মানুষ, জগত ও জীবন সম্পর্কে প্রকৃত সত্য যতটা উপলব্ধি করতে পারেন, তিনি ততটাই শিক্ষিত বলে বিবেচিত হন। তাই ইতিহাস জানা এবং বোঝা ছাড়া একজন মানুষ পূর্ণাঙ্গ শিক্ষিত হয়ে উঠতে পারেন না। ইতিহাস কেন তৃতীয় নয়ন? একটা উদাহরণ নেওয়া যাক। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কথা ধরুন। আমরা এই ঘটনাকে যখন প্রত্যক্ষ করি, তখন দেখি দুটি ভিন্ন ধর্মের মানুষ পরস্পর পরস্পরের বিরুদ্ধে সহিংস হয়ে উঠছে। আমরা খুব সহজেই এই ঘটনাকে ধর্মের সঙ্গে জুড়ে দিই এবং ধর্মকে এর কারণ হিসেবে চিহ্নিত করি। ধর্মীয় বিদ্বেষের ফল হিসেবে সেগুলোকে ব্যাখ্যা করি। কিন্তু সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ইতিহাসকে কার্যকারণ সম্পর্কের উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, এই দাঙ্গাগুলোর পিছনে ধর্মের চেয়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উদ্দেশ্য খুবই শক্তিশালী ভূমিকায় রয়েছে। অর্থাৎ মূলত, ...