ধর্ম ও ধর্মান্ধতার পার্থক্য কী? ধর্ম ও ধর্মান্ধতা এক জিনিস নয়। ধর্ম মানুষকে ভালবাসতে শেখায়। ধর্মান্ধতা অনেক সময়ই মানুষকে হত্যা করতে প্ররোচিত করে। ধর্ম সহনশীল হতে শেখায়। ধর্মান্ধতা মানুষকে উগ্র ও সাম্প্রদায়িক করে তোলে। ধর্ম মানুষকে নীতি ও নৈতিকতার শিক্ষা দেয়। ধর্মান্ধতা নীতিহীন করে না তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাকে যুক্তি বুদ্ধির বাইরে চালিত করে। মানবিক করে তোলে। যাকে সে ভালোবাসতে পারবে না, একজন ধার্মিক মানুষ তাকে ঘৃণাও করতে পারবেন না। বরং বিপদের দিনে তার পাশে দাঁড়াতে ইতস্তত করবে না। ধর্মান্ধ মানুষ উল্টো আচরণ করে।
ধর্মের নামে রাজনীতিই প্রমাণ করে আমরা মধ্যযুগীয় ভারতবর্ষে এখনও যে ধর্মের নামে রাজনীতি হয় বা হচ্ছে, তাতেই প্রমাণ হয় আমরা আধুনিক নয়, চিন্তায়-চেতনায় এখনো মধ্যযুগে বাস করি। কারণ, আধুনিক যুগের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য আছে। কোন জাতি, নিজেকে আধুনিক বলে দাবি করতে চাইলে, এই বৈশিষ্ট্যগুলো তাদের মধ্যে থাকা প্রয়োজন। এর মধ্যে একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো হল ধর্ম-মুক্ত রাজনীতি। পৃথিবীর যেখানে যেখানে রাজনীতি ধর্মমুক্ত হয়েছে, সেখানে সেখানে রাজনৈতিক হিংসা হানাহানি অনেক কমে গেছে। প্রতিষ্ঠিত হয়েছে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা, যা আধুনিকতার দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর দিকে তাকালেই বুঝতে পারা যায় ধর্মের সঙ্গে রাজনীতি সম্পর্কিত থাকলে কি ভয়ংকর রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়। বোঝা যায়, কীভাবে নিরবিচ্ছিন্ন অস্থিরতা ও রাজনৈতিক হিংসা এবং প্রতিহিংসার দাপটে একটা জাতি শতধাবিভক্ত হয়ে পড়ে। মূলত এ কারণেই, অসংখ্য ছোট ছোট, বলা ভালো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাষ্ট্রে বিভক্ত হয়ে পড়েছে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য। ফলে সাম্রাজ্যবাদী বৃহৎ রাষ্ট্রগুলোর নয়া সাম্রাজ্যবাদী নাগপাশ ...