সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

সময়ের গুরুত্ব

 সময়ের গুরুত্ব

আলী হোসেন

সময়কে সময়মতো এবং ঠিকঠাক কাজে না লাগালে, অসময়ের জন্ম হয়। এই অসময় পরবর্তীকালে দুঃসময়ের জন্ম দেয়। তখন তাকে পুনরায় ‘সময়ে’ পরিণত করাটা শুধু সময়-সাপেক্ষ নয়, অত্যন্ত কঠিন হয়ে ওঠে।

—আলী হোসেন।

অব্যবহৃত সময় অসময় ও দুঃসময়ের জন্ম দেয়

প্রচুর মানুষকে, বিশেষ করে ছাত্রছাত্রীরা, ব্যাপকভাবে সময়ের অপচয় করে। একটা বিষয় নিয়ে ভাবতে গিয়ে অন্য ভাবনায় ঢুকে পড়ে। কখনও কখনও এও দেখা যায়, প্রয়োজন বা প্রায়োরিটিকে গুরুত্ব না দিয়ে শুধুমাত্র সাময়িক ভালোলাগাকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে গুরুত্বহীন বিষয়কে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে ফেলছে। ফলে তাদের মধ্যে থাকা উজ্জ্বল মেধাকে আর সদ্ব্যবহার করতে পারছে না। এর অবশ্যম্ভাবী পরিণতি হিসেবে সে চূড়ান্তভাবে ব্যর্থতাকে আলিঙ্গন করতে বাধ্য হচ্ছে। মনে রাখতে হবে, সময় মানব জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। এটি এমন এক সম্পদ, যা প্রতিটি মানুষ প্রায় সমানভাবে পায়, কিন্তু তা ব্যবহারের ভুল পদ্ধতি ও লক্ষ্যের কারণে জীবন গড়ে ওঠে সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপে। কারণ, সময়কে সময়মতো এবং ঠিকঠাক কাজে না লাগালে, অসময়ের জন্ম হয়। এই অসময় পরবর্তীকালে দুঃসময়ের জন্ম দেয়। তখন তাকে পুনরায় ‘সময়ে’ পরিণত করাটা শুধু সময়-সাপেক্ষই নয়, অত্যন্ত কঠিন হয়ে ওঠে। এই সত্যটি যুগে যুগে ইতিহাস, দর্শন এবং বাস্তবতার নিরিখে ‘প্রমাণিত সত্য’ রূপে চিহ্নিত হয়েছে। শুধু তাই নয়, মনে রাখা দরকার, সময়ের অপচয় কেবল ব্যক্তির নয়, কখনও কখনও গোটা সভ্যতার পতনের মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

অসময়ের জন্ম—ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

আপনি যদি ইতিহাসের দিকে তাকান, দেখতে পাবেন, সময়ের অপচয় বা ভুল সিদ্ধান্ত কীভাবে একের পর এক সাম্রাজ্যকে পতনের দিকে ঠেলে দিয়েছে। বিখ্যাত অর্থনীতিবিদ লুডভিগ ফন মিজেস (Ludwig von Mises) ‘ইতিহাসের ‘অপচয় কাল’ বা ‘স্থবির যুগ’ (Historical Garbage Time) নামক একটি ধারণার জন্ম দিয়েছেন। এই ধারণাটি সেই ‘সময়’কে নির্দেশ করে, যখন কোন সমাজ মৌলিক কোন অর্থনৈতিক নিয়মকে লঙ্ঘন করে চলে, অথচ নীতিনির্ধারকরা তা পরিবর্তন বা প্রতিরোধ করার ক্ষেত্রে অক্ষমতা দেখায় এবং সমগ্র যুগ ব্যর্থতার দিকে ধাবিত হয়। অর্থনৈতিক ইতিহাসবিদ অ্যাঙ্গাস ম্যাডিসনের (Angus Maddison) গবেষণা অনুযায়ী, প্রথম খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৭০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত, এই প্রায় ১৭০০ বছর ব্যাপী সময়কাল মানুষের উন্নয়নের নিরিখে এক ‘অপচয় কাল বা স্থবির যুগ’ বলে চিহ্নিত, যখন বিশ্ব অর্থনীতির গড় প্রবৃদ্ধি ছিল ০.১%-এর নিচে এবং মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির হার ছিল মাত্র ০.০২%। এটা ছিল সময়কে সময়মতো এবং উপযুক্তভাবে কাজে না লাগানোর ফল।

চিনের ইতিহাসের মধ্যযুগীয় সময়কালেও এই ধরনের ঘটনার উদাহরণ রয়েছে। মিং সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা সম্রাট হংঙু কঠোর আইন ও প্রশাসনিক কাঠামো তৈরি করলেও, মূলত তা ছিল ব্যক্তিগত ক্ষমতা কুক্ষিগত করার প্রয়াস। তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদ বিলুপ্ত করে এবং সামাজিক গতিশীলতাকে রুদ্ধ করে, ২৭৬ বছরের মিং রাজবংশকে চিনের ইতিহাসের অন্যতম অন্ধকার অধ্যায়ে পরিণত করেছিলেন। অন্যদিকে, মিং রাজবংশের শেষ সম্রাট চোংজেন (Chongzhen) অত্যন্ত পরিশ্রমী হওয়া সত্ত্বেও, দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত দুর্নীতি এবং তাঁর নিজের একগুঁয়ে সিদ্ধান্তের কারণে রাজবংশের পতন ঠেকাতে পারেননি। এখানেও সেই সময়কে সময়মতো এবং সঠিকভাবে ব্যবহার না করতে পারার গুরুতর প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।

শুধু তাই নয়, পূর্ব হান রাজবংশের পতনও এক ভুল সিদ্ধান্তের ফল। সম্রাট গুয়াংঙু (Liu Xiu) সীমান্ত প্রতিরক্ষার খরচ বাঁচাতে দক্ষিণ শিওংনুদের (Xiongnu) উত্তরের মালভূমি অঞ্চলে স্বায়ত্তশাসনের অনুমতি দেন। এই আপাতদৃষ্টিতে যুক্তিযুক্ত সিদ্ধান্ত দীর্ঘমেয়াদে এক কাঠামোগত বিপর্যয় ডেকে আনে। এই সিদ্ধান্তের কারণে যখন কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে পড়ে, ঠিক তখনই এই আধা-স্বাধীন গোষ্ঠীগুলো বিদ্রোহ শুরু করে, যা চিনের ইতিহাসে ‘পাঁচ বর্বরের বিশৃঙ্খলা’ (Upheaval of the Five Barbarians) নামে পরিচিত। এই বিশৃঙ্খলা উত্তর চিনকে শতাব্দীব্যাপী ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়।

দার্শনিকদের চোখে সময়ের মূল্য

সময়ের সদ্ব্যবহার নিয়ে দার্শনিকদের চিন্তাধারা হাজার হাজার বছর ধরে মানবজাতিকে পথ দেখিয়ে আসছে। প্রাচীন রোমান দার্শনিক সেনেকা (Seneca) তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘জীবনের সংক্ষিপ্ততা নিয়ে’ (De Brevitate Vitae)-তে বলেছেন: “জীবন সংক্ষিপ্ত নয়, বরং আমরা একে সংক্ষিপ্ত করে তুলি; প্রকৃতি কৃপণ নয়, বরং আমরা অনেকটা অপচয় করি।” তাঁর মতে, মানুষ তার জীবনের বেশিরভাগ সময়ই ভুল কাজ, বিলাসিতা এবং অর্থহীন তাড়নায় ব্যয় করে ফেলে।

জীবন সংক্ষিপ্ত নয়, বরং আমরা একে সংক্ষিপ্ত করে তুলি; প্রকৃতি কৃপণ নয়, বরং আমরা অনেকটা অপচয় করি।

—রোমান দার্শনিক সেনেকা।

আধুনিক যুগে ব্রিটিশ দার্শনিক অ্যালডাস হাক্সলি সময়ের সমতা ও বৈষম্য নিয়ে এক গভীর সত্য উন্মোচন করেছেন: “সময় সবচেয়ে নিরপেক্ষ; সবাইকে ২৪ ঘণ্টাই দেয়। কিন্তু সময় একইসাথে সবচেয়ে পক্ষপাতদুষ্ট; সবাইকে ২৪ ঘণ্টা দেয় না।” যিনি সময়ের প্রতি যত্নবান, তাঁর দিন ২৪ ঘণ্টার চেয়েও বড়; যে সময় নষ্ট করে, তার দিন ২৪ ঘণ্টার চেয়েও ছোট।

আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন সময়কে অর্থনৈতিক মূল্যের নিরিখে দেখেছেন। তিনিই প্রথম আধুনিক অর্থে ‘সময়ই অর্থ’ (Time is Money) এই ধারণা প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর কথায় — মনে রেখো যে, সময়ই অর্থ। যে ব্যক্তি প্রতিদিন দশ শিলিং উপার্জন করতে পারে, অথচ অর্ধেক দিন অলস বসে থাকে বা বিনোদনে কাটায়, সে যেন পাঁচ শিলিং সমুদ্রে ফেলে দিল।”

সোভিয়েত দার্শনিককীটতত্ত্ববিদ আলেকজান্ডার লুবিশ্চেভ (Alexander Lyubishchev) তাঁর সমগ্র জীবন সময় ব্যবস্থাপনার (টাইম ম্যানেজমেন্ট) মধ্যে বেঁধে রেখেছিলেন। তিনি ৭০টিরও বেশি গবেষণা গ্রন্থ রচনা করেছিলেন—একমাত্র সুশৃঙ্খল সময় ব্যবস্থাপনার ফলেই তারপক্ষে এটা করা সম্ভব হয়েছিল। এই দৃষ্টান্ত প্রমাণ করে যে, সময়ের প্রতি সচেতন দৃষ্টিভঙ্গি একজন মানুষকে অসাধারণ উচ্চতায় পৌঁছে দিতে পারে।

সমসাময়িক পরিসংখ্যান—যখন অসময় দুঃসময় হয় :

১) শিক্ষার্থীদের মধ্যে সময়ের অপচয় :

আধুনিক বিশ্বে সময়ের অপচয় এক নীরব মহামারীতে পরিণত হয়েছে, যার অর্থনৈতিক ও সামাজিক মূল্য অপরিসীম। গবেষণায় দেখা গেছে, বর্তমানে প্রাপ্তবয়স্কদের ২০-২৫% দীর্ঘস্থায়ী দীর্ঘসূত্রিতা (Chronic Procrastination) জনিত সমস্যায় ভুগছেন, অথচ ১৯৭০-এর দশকে এই হার ছিল মাত্র ৫%কলেজ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৮০-৯৫% কখনো না কখনো কাজ ফেলে রাখেন এবং ৫০% নিয়মিতভাবে ‘দীর্ঘসূত্রিতা সংক্রান্ত সমস্যা’র শিকার।

২) কর্মক্ষেত্রে সময়ের অপচয় :

কর্মক্ষেত্রে এর প্রভাব আরও ভয়াবহযুক্তরাজ্যের এক জরিপে দেখা গেছে, কর্মচারীদের দীর্ঘসূত্রিতার কারণে ব্রিটিশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বছরে ৭৬ বিলিয়ন পাউন্ড ক্ষতির সম্মুখীন হয়, যা জাতীয় ঋণের প্রায় ১০%। গড় কর্মী প্রতিদিন ৪৩ মিনিট সময় অপ্রয়োজনীয় কাজে নষ্ট করেন, যা সপ্তাহে দাঁড়ায় ঘণ্টা ৩৫ মিনিটে এবং বছরে ৫৫ দিনে। অর্থাৎ একজন পূর্ণকালীন কর্মী বছরে প্রায় দুই মাসের সমান সময় শুধু দীর্ঘসূত্রিতায় কাটিয়ে দেন।

আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের চিত্রটি আরও ভয়াবহ। ক্যালগারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পিয়ার্স স্টিলের (Piers Steel) গবেষণা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো কর্মীদের দীর্ঘসূত্রিতার কারণে বছরে প্রায় ১ ট্রিলিয়ন (১ লক্ষ কোটি) ডলার হারায়। হিসাব বলছে, গড়ে একজন মার্কিন কর্মী প্রতিদিন ২ ঘণ্টা ১১ মিনিট কাজ ফেলে রাখেন, যা বছরে ৫৫ দিনে গিয়ে পৌঁছায়। ৮৮ শতাংশ কর্মী প্রতিদিন অন্তত ১ ঘণ্টা এবং ৮.৭ শতাংশ কর্মী প্রতিদিন ৪ ঘণ্টারও বেশি সময় প্রয়োজনীয় কাজের পরিবর্তে অপ্রয়োজনীয় কাজে ব্যয় করেন।

এছাড়া হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে কর্মীদের অর্থহীন অলসতা কোম্পানিগুলোর বছরে ১০০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি করছে। একইসঙ্গে, গবেষণায় এটাও দেখা গেছে যে দীর্ঘসূত্রিতার প্রবণতা কর্মীদের মানসিক চাপ ৩০-৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করে এবং বিষণ্ণতা ও উদ্বেগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

⏰ সময়কে পুনরুদ্ধারের পথ

সুতরাং দেখা যাচ্ছে, সময়কে সময়মতো কাজে না লাগাতে পারলে ‘সময়’ ‘অসময়ে’ পরিণত হয়। এবং এই অসময় যে পরবর্তীকালে ‘দুঃসময়ে’র জন্ম দেয়— এতে কোন সন্দেহ নেই। এবং তাকে পুনরায় ‘সময়ে’ পরিণত করাটা অত্যন্ত সময়-সাপেক্ষ বিষয় হয়ে ওঠে।

ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, একটি ভুল সিদ্ধান্তের পরিণতি মেরামত করতে প্রজন্মের পর প্রজন্ম লেগে যায়। মিং রাজবংশের পতনের পর চিনের স্থিতিশীলতা ফিরে পেতে কয়েক দশক লেগেছিল। পূর্ব হানের সীমান্ত নীতির ভুল শুধরাতে শতাব্দীর পর শতাব্দী রক্তক্ষয়ী সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে হয়েছে।

ব্যক্তিজীবনেও একই সূত্র প্রযোজ্য—দীর্ঘদিনের অবহেলায় হারানো সুযোগ, নষ্ট সম্পর্ক কিংবা ধ্বংসপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধার করতে দ্বিগুণ-তিনগুণ সময় ও প্রচেষ্টার প্রয়োজন হয়।

সময়ের গুরুত্ব বা তাৎপর্য :

সময়ের দার্শনিক বস্তুগত গুরুত্ব অত্যন্ত সরল অথচ গভীর: সময়কে যথাযথভাবে কাজে লাগানো মানেই জীবনকে সার্থক করে তোলা। সেনেকার কথায়, “জীবন যথেষ্ট দীর্ঘ, যদি তুমি তা সঠিকভাবে ব্যবহার করতে জানো।” হাক্সলির ভাষায়—যে সময়ের মূল্য বোঝে, তার জীবন বড় হয়; যে বোঝে না, তার জীবন ছোট থেকে যায়ফ্রাঙ্কলিনের অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে আমরা বুঝতে পারি, প্রতিটি মিনিটের আর্থিক ও নৈতিক মূল্য রয়েছে। আর লুবিশ্চেভের জীবন থেকে আমরা শিখতে পারি, শৃঙ্খলিত সময় ব্যবস্থাপনা একজন মানুষকে অসাধারণ উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।

শেষ পর্যন্ত মনে রাখতে হবে, সময়ের সদ্ব্যবহার কেবল একটি ব্যক্তিগত গুণ নয়, এটি একটি সভ্যতার মেরুদণ্ড। যে জাতি সময়ের মূল্য বোঝে না, সে জাতি ইতিহাসের ‘অপচয় কাল’ বা ‘স্থবির যুগ’-এ নিমজ্জিত হয়। প্রকৃতপক্ষে, প্রতিটি মানুষ এবং সেই সঙ্গে তার সঙ্গে সম্পর্কিত সমাজ ও রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে এটা অমোঘ সত্য যে,  সময়ের অপচয় একদিন অসময় বয়ে আনে, অসময় ডেকে আনে দুঃসময়, আর সেই দুঃসময়কে পরাজিত করে সময়কে পুনরুদ্ধার করা— জীবনের জন্য সবচেয়ে কঠিন ও সময়-সাপেক্ষ কাজ।

----------xx-----------

তথ্যসূত্র

1. লুডভিগ ফন মিজেসঅ্যাঙ্গাস ম্যাডিসনের ধারণা: মা জিয়াংইয়াং, ‘ইতিহাসের স্থবির-কাল (Historical Garbage Time) পেরিয়ে’, অর্থনৈতিক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন, ২৬ জানুয়ারি ২০২৪

2. মিং রাজবংশ ও চোংজেন সম্রাট: হুয়াং দাজি, ‘ইতিহাসের স্থবির-কাল,’ ওরিয়েন্টাল ডেইলি নিউজ, ২৯ আগস্ট ২০২৪

3. পূর্ব হান রাজবংশের পতন: ‘চীনের ইতিহাসে তিনটি বড় ভুল সিদ্ধান্ত,’ চায়না টাইমস, ৪ এপ্রিল ২০২৬

4. সেনেকা: ‘জীবনের সংক্ষিপ্ততা নিয়ে (De Brevitate Vitae),’ গৃহীত: ‘ভালো আত্মার চিকেন স্যুপ নিশ্চয়ই দর্শনের স্বাদ আছে’, হেফেই সান্ধ্য পত্রিকা, ৯ জুলাই ২০২৩

5. অ্যালডাস হাক্সলি: ‘সময়কে মূল্য দাও, সদ্ব্যবহার করো’, ইয়ুথ ডেইলি নিউজ, ২৮ এপ্রিল ২০২৫

6. বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন: ‘সময়ই অর্থ’, প্যানসাই, ১১ ডিসেম্বর ২০২১

7. লুবিশ্চেভের সময় ডায়েরি: ‘সময় নিয়ে কথা বলো, নিজের কথা বলো’, চিন শিক্ষক পত্রিকা, ১ নভেম্বর ২০১৭

8. যুক্তরাজ্যের দীর্ঘসূত্রিতার ক্ষতি: ‘কর্মক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রিতা ব্রিটিশ ব্যবসায় বছরে ৭৬ বিলিয়ন পাউন্ড ক্ষতি করে’, গ্লোবাল ব্যাঙ্কিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

9. যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘসূত্রিতার ক্ষতি: ‘ধীর গতিকে বিদায়, ৫ ধাপে দীর্ঘসূত্রিতাকে পরাজয়’, স্টর্ম মিডিয়া, ৪ জানুয়ারি ২০১৪

10. দীর্ঘসূত্রিতার পরিসংখ্যান ২০২৫: আনাস্তাসিয়া জালিউবোভস্কা, লিংকডইন

11. কর্মীদের অলসতার ক্ষতি: “আমেরিকান আইডল: কর্মীরা কিছু করার অপেক্ষায় অনেক সময় নষ্ট করে”, হার্ভার্ড বিজনেস স্কুল ওয়ার্কিং নলেজ, ৩১ জানুয়ারি ২০১৮ 

ইতিহাসের ‘অপচয় কাল’ বা ‘স্থবির যুগ’ (Historical Garbage Time)

মন্তব্যসমূহ

আলী হোসেনের বহুল-পঠিত উক্তিগুলো পড়ুন

ধর্মের নামে রাজনীতিই প্রমাণ করে আমরা মধ্যযুগীয়

ধর্মের নামে রাজনীতিই প্রমাণ করে আমরা মধ্যযুগীয় ভারতবর্ষে এখনও যে ধর্মের নামে রাজনীতি হয় বা হচ্ছে, তাতেই প্রমাণ হয় আমরা আধুনিক নয়, চিন্তায়-চেতনায় এখনো মধ্যযুগে বাস করি। কারণ, আধুনিক যুগের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য আছে। কোন জাতি, নিজেকে আধুনিক বলে দাবি করতে চাইলে, এই বৈশিষ্ট্যগুলো তাদের মধ্যে থাকা প্রয়োজন। এর মধ্যে একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো হল ধর্ম-মুক্ত রাজনীতি। পৃথিবীর যেখানে যেখানে রাজনীতি ধর্মমুক্ত হয়েছে, সেখানে সেখানে রাজনৈতিক হিংসা হানাহানি অনেক কমে গেছে। প্রতিষ্ঠিত হয়েছে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা, যা আধুনিকতার দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর দিকে তাকালেই বুঝতে পারা যায় ধর্মের সঙ্গে রাজনীতি সম্পর্কিত থাকলে কি ভয়ংকর রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়। বোঝা যায়, কীভাবে নিরবিচ্ছিন্ন অস্থিরতা ও রাজনৈতিক হিংসা এবং প্রতিহিংসার দাপটে একটা জাতি শতধাবিভক্ত হয়ে পড়ে। মূলত এ কারণেই, অসংখ্য ছোট ছোট, বলা ভালো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাষ্ট্রে বিভক্ত হয়ে পড়েছে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য। ফলে সাম্রাজ্যবাদী বৃহৎ রাষ্ট্রগুলোর নয়া সাম্রাজ্যবাদী নাগপাশ ...

ইতিহাস কী?

ইতিহাস কী? ইতিহাস হচ্ছে মানুষের তৃতীয় নয়ন। এই তৃতীয় নয়ন মানুষকে অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ বিষয়ে সঠিকভাবে পর্যবেক্ষণ করতে সাহায্য করে। এই পর্যবেক্ষণই জগত এবং জীবনের প্রকৃত সত্য উপলব্ধি করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। একজন মানুষ, জগত ও জীবন সম্পর্কে  প্রকৃত সত্য যতটা উপলব্ধি করতে পারেন, তিনি ততটাই শিক্ষিত বলে বিবেচিত হন। তাই ইতিহাস জানা এবং বোঝা ছাড়া একজন মানুষ পূর্ণাঙ্গ শিক্ষিত হয়ে উঠতে পারেন না। ইতিহাস কেন তৃতীয় নয়ন? একটা উদাহরণ নেওয়া যাক। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কথা ধরুন। আমরা এই ঘটনাকে যখন প্রত্যক্ষ করি, তখন দেখি দুটি ভিন্ন ধর্মের মানুষ পরস্পর পরস্পরের বিরুদ্ধে সহিংস হয়ে উঠছে। আমরা খুব সহজেই এই ঘটনাকে ধর্মের সঙ্গে জুড়ে দিই এবং ধর্মকে এর কারণ হিসেবে চিহ্নিত করি। ধর্মীয় বিদ্বেষের ফল হিসেবে সেগুলোকে ব্যাখ্যা করি। কিন্তু সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ইতিহাসকে কার্যকারণ সম্পর্কের উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, এই দাঙ্গাগুলোর পিছনে ধর্মের চেয়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উদ্দেশ্য খুবই শক্তিশালী ভূমিকায় রয়েছে। অর্থাৎ মূলত, ...

ধর্ম দিয়ে ধর্মান্ধতা দূর করা যায় না।

ধর্ম দিয়ে ধর্মান্ধতা দূর করা যায় না প্রাতিষ্ঠানিক ধর্ম দিয়ে ধর্মান্ধতা দূর করা যায় না। কারণ দুটোরই ভিত্তি হচ্ছে যুক্তিবিমুখ বিশ্বাস। তাই, কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলা হয়তো যায়। কিন্তু ধর্ম দিয়ে ধর্মান্ধতা দূর করা কখনই যায় না। একথা ভুলতে বসেছেন যাঁরা, তাঁরা নিজেদের প্রগতিশীল দাবি করতেই পারেন। কিন্তু মনে রাখতে হবে, এতে প্রগতিশীলতা গতিলাভ করে না বরং গতি হারায়। --------x------- Di Ansar Ali হ্যা, পরিস্থিতি অনুযায়ী সমঝোতা করতে হয়। কিন্তু মাথায় রাখতে হয়, তাতে আমার সত্যিই কোনো লাভ হচ্ছে কিনা। এবং তার অদূর ও সুদূরপ্রসারী ফলাফল প্রগতিশীল চিন্তাচেতনার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ। নিজের নাক কেটে পরের যাত্রা ভঙ্গ করাটা মোটেই যুক্তিযুক্ত নয় বলেই মনে হয়। কারণ, তাতে পরের যাত্রা হয়তো ভঙ্গ হয়, কিন্তু নিজের শরীরে ভয়ঙ্কর ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়ার দখলদারি বেড়ে যেতে পারে। আমার মনে হয়, এই হিসাবটা ঠিকঠাক না করতে পারলে পরিস্থিতি অনুকূলে আসার পরিবর্তে প্রতিকূলে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি থাকে। এক্ষেত্রে 'দশচক্রে ভগবান ভুত হওয়ার' বিষয়টিও মাথায় রাখার প্রয়োজন খুব বেশি বলেই আমি মনে করি। যারা প্রগতিশীল নয়, বলে এতদি...

বিজেপি ও আরএসএস কি আলাদা?

বিজেপি ও আরএসএস কি আলাদা? বিজেপি ও আরএসএস-এর রসায়ন সম্পর্কে সম্যক অবহিত আছেন, এমন মানুষদের সবাই জানেন বিজেপির সঙ্গে আরএসএস-এর গভীর সম্পর্কের কথা। এবং তাঁরা এটাও জানেন যে, আরএসএস দ্বারা বিজেপি নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত হয়। তাই এই দুই সংগঠনকে আপাতদৃষ্টিতে আলাদা মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে এরা আলাদা নয়। বরং এরা একে অপরের পরিপূরক। বিস্তারিত দেখুন এখানে ক্লিক করে

বিজ্ঞান শিক্ষার পরিবর্তে ধর্মশিক্ষার প্রচলন ও তার পরিণতি

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্ম শিক্ষার প্রভাব দেশের বড় বড় বিজ্ঞান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেভাবে বেদ ও পুরাণসহ ধর্মশাস্ত্র পড়ানোর ধুম লেগেছে তাতে ভারতবর্ষ খুব তাড়াতাড়ি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মত অশিক্ষার কানাগলিতে ঢুকে যাবে। এভাবে চলতে থাকলে,বলা ভালো যেতে বাধ্য হবে। শিবপুর আই আই ই এস টি তে যেভাবে বেদ ও পুরাণ ভিত্তিক কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে তাতে এই আশঙ্কা প্রকট হয়ে উঠছে। সেই সঙ্গে গোলওয়ালকরের ছবি ও বই রেখে যেভাবে বিচ্ছিন্নতা ও সাম্প্রদায়িক মনোভাবাপন্ন মতাদর্শকে হাইলাইট করা হচ্ছে তাতে ভারতের ভবিষ্যত দুর্দশার রূপটি স্পস্ট হয়ে উঠছে। বিস্তারিত পড়তে এখানে ক্লিক করুন ফেসবুকে দেখুন এখানে ক্লিক করে