ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের প্রতি দরদ না ভন্ডামি!
ধর্মের ভিত্তিতে সংখ্যালঘু —এই বিষয়টিকে আপনি যদি স্বীকৃতি দেন এবং নিজের ধর্মের মানুষ হিসেবে আপনি যদি কোন জনগোষ্ঠীকে আপন বলে ভাবেন, তাদের দুঃখ-কষ্ট যদি আপনাকে কষ্ট দেয়, তাহলে নিজের দেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের প্রতি আপনার সবচেয়ে বেশি নজর রাখতে হবে। কারণ, আপনার দেশে যারা সংখ্যালঘু, অন্য কোন দেশে তারাই সংখ্যাগুরু। আপনার দেশে সংখ্যালঘুরা যদি শান্তিতে থাকতে না পারেন, বৈষম্যের শিকার হওয়াকে আপনি যদি আটকাতে না পারেন, তাহলে অন্য দেশে আপনার ধর্মের সংখ্যালঘু মানুষকে নিরাপদ রাখার বিষয়টি অযৌক্তিক এবং কার্যত কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।
মনে রাখতে হবে, ধর্মীয় কারণে যারা সংখ্যালঘুদের বঞ্চিত করেন, তারা মানবিক গুণসম্পন্ন নয়, তারা সম্পূর্ণ স্বার্থান্ধ এক শ্রেণির মানুষ। আপনি যদি আপনার দেশে এই স্বার্থান্ধ ও ধর্মান্ধ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত হন, তবে আপনার মাথায় রাখা উচিত, যে আপনার মতো মানবিক মূল্যবোধহীন মানুষ অন্য দেশেও আছে। তারাও তাদের এই ধরনের অমানবিক কার্যকলাপের বৈধতা খুঁজবেন, আপনার দেশে, আপনার উস্কানিতে ঘটে চলা অমানবিক কর্মকান্ডকে দেখিয়েই। অর্থাৎ আপনার দেশে ঘটে চলা ঘটনাকেই তারা ব্যবহার করবেন নিজের দেশের সাধারণ জনগণকে উস্কে দিয়ে একের পর এক অমানবিক কর্মকাণ্ড ঘটাতে। এবং সেটাকে তিনি করবে নিজেদের অসৎ উদ্দেশ্য সফল করার জন্য, ঠিক আপনার মতোই। যার অবশ্যম্ভবই পরিণতি হল, উভয় দেশেরই ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা আর নিরাপদ থাকতে পারবেন না।
তাই আপনি যদি সত্যিই আপনার ধর্মীয় সম্প্রদায়কে ভালোবাসেন, তাদের নিরাপত্তা আপনার অন্তরের চাওয়া হয়, তাহলে আপনার প্রথম কাজ হল, নিজের দেশের অন্য ধর্মাবলম্বী সংখ্যালঘু মানুষের জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তা বিধান করা এবং অন্য দেশের সংখ্যালঘুদের জন্য মুখ খোলা, প্রতিবাদ আন্দোলনে সামিল হওয়া। সেটা না করে, আপনি যদি পাল্টা উস্কানি দিয়ে আপনার নিজের দেশের পরিবেশকে অশান্ত করেন, যাতে এদেশের সংখ্যালঘু মানুষ নির্যাতনের শিকার হন, তবে তা বুদ্ধিমানের কাজ নয়, এটা ধান্দাবাজের কাজ।
সুতরাং যারা এই নীতি নিজের দেশে পালন করেন না, অথচ অন্য দেশে তার সম্প্রদায়ের সংখ্যালঘু মানুষ বৈষম্যের শিকার হলে তাদের প্রতি দরদ দেখান, সেটা যে আসলেই মেকি এবং সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, তা দিনের আলোর মতো পরিষ্কার। অর্থাৎ আপনার ধর্মের মানুষ, যারা অন্য দেশে বসবাস করেন, সংখ্যালঘু হিসেবে, তাদের প্রতি যে দরদ আপনি দেখাচ্ছেন, তা আপনার রাজনৈতিক অভিসন্ধিমূলক কর্মকাণ্ড। এক কথায়, এটা আপনার একটা অজুহাত মাত্র এবং ধর্মীয় স্বজনকে বাঁচানোর নামে সম্পূর্ণ ভন্ডামি।
আমরা যারা সাধারণ মানুষ, তাদের এটা বোঝা উচিত যে, প্রত্যেক দেশে কিছু মানুষ আছেন, যারা একে অপরের পরিপূরক। এদেরই একদল দেশে সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের উস্কানি দেয়, এই উদ্দেশ্য নিয়ে যে, এটা দেখে অন্য প্রতিবেশী দেশেও তা ঘটুক। এবং সেই প্রতিবেশী দেশের ঘটনাকে দেখিয়ে তিনি নিজের দেশে রাজনীতি করবেন। সাধারণ মানুষকে উসকে দিয়ে নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের ভোট পাওয়াকে নিশ্চিত করবেন। আপনার জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করতে না পারার ব্যর্থতার বিষয়টি ভুলিয়ে দিতে প্রতিবেশী দেশের সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের বিষয়টি দেখিয়ে সে নিজের ব্যর্থতা ঢাকার চেষ্টা করবেন। এককথায়, তার ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠিস্বার্থে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ফায়দা তুলবেন। অত্যন্ত বেদনার কথা হল, এই ঘটনায় জড়িয়ে যেসব মানুষ ধনে ও প্রাণে মারা যাবে, তাদের অনেকেই যে তার নিজের ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষ, সে বিষয়ে এই রাজনীতিরা তাদের ভাবনায় কোন জায়গা দেয় না, দেওয়ার প্রয়োজনও বোধ করেন না।
এপর্যন্ত বোঝা খুব বেশি কঠিন নয়। কিন্তু কেন এই বিষয়টি নিয়ে তারা রাজনীতি করে, এই রাজনীতি কীভাবে তাদের ব্যক্তি ও গোষ্ঠি স্বার্থ রক্ষা করে, তা বোঝা বেশ কঠিন। এই কৌশল অবলম্বনের মাধ্যমে পৃথিবীর কোন দেশের সম্পদের উপর কীভাবে তাদের গোষ্ঠীগত নিয়ন্ত্রণ কায়েম হয়, তা বোঝা যথেষ্ট কঠিন। সাধারণ দৃষ্টিতে দেখলে মনে হবে, তারা যা করছেন তা আমাদের অর্থাৎ সাধারণ মানুষের স্বার্থে। আমাদের আর্থসামাজিক নিরাপত্তা বিধানই তাদের মূল লক্ষ্য। কিন্তু বাস্তবতা হল ঠিক এর উল্টো। তারা নিজেদের গোষ্ঠির (শ্রেণির) আর্থসামাজিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা পূরণ করার জন্য এই ধরনের সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করে থাকেন।
কীভাবে?
আসলে এই পৃথিবীতে আদিম মানুষ পশু শিকার এবং উদ্ভিজ্জ খাদ্য সামগ্রী আহরণের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করতেন। একসময় তারা তাদের শ্রম ও মেধা কে ব্যবহার করে কৃষি পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। এই আবিষ্কারের সাথে সাথে কৃষি উৎপাদন (সম্পদ) বৃদ্ধি পায়। ফলে সেই উৎপাদিত সম্পদের উপর ব্যক্তি মালিকানা সৃষ্টির সুযোগ ঘটে। চতুর, স্বার্থান্ধ ও পেশী-শক্তির অধিকারী কিছু মানুষ উৎপাদকের (কৃষকের) উৎপাদিত পণ্য মজুত ও তার ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ কায়েম করার কৌশল খুঁজতে শুরু করে। শক্তি প্রয়োগ ছাড়াও অন্য যে সব কৌশল তারা খুঁজে বের করে, তার মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী কৌশল হল ঈশ্বরতত্ত্ব। একে কেন্দ্র করে গড়ে তোলা হয় ধর্মীয় রীতি-নীতি এবং এই রীতিনীতি নিষ্ঠার সঙ্গে পালনকে বঞ্চিত মানুষের মুক্তির উপায় হিসেবে তুলে ধরা। গড়ে তোলা হয় পরকাল ও পুনর্জন্মের তত্ত্ব, যে তত্ত্বের মূল কথা হল শাসক ঈশ্বরের প্রতিনিধি, তার দেওয়া বিধানই আসলে ঈশ্বরের বিধান, যা মেনে না চলার অর্থ হল পাপ। এবং এই বিধান মেনে চলার মধ্য দিয়েই একজন মানুষ মৃত্যু-পরবর্তীকালে অপার সুখ ও শান্তির সুযোগ পাবেন। সেই সুখ শান্তির কাছে ইহকালের দুঃখকষ্ট ভোগের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। ইহকালে যে যত দুঃখকষ্ট ভোগ করবে, পরকালে সে তার চেয়ে অনেকগুণ বেশি সুখ ও শান্তির অধিকারী হবেন। কারণ, এই জগৎ হল মানুষের পরীক্ষাগার। দুঃখ কষ্টের মাধ্যমেই ঈশ্বর মানুষকে পরীক্ষা করেন এবং যাচাই করেন, একজন মানুষ কতটা ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস ও ভক্তি রাখে, কতটাই বা তাঁর প্রতি সে অনুগত। এভাবেই জন্ম নেয় ধর্মাশ্রয়ী রাজনীতির রাষ্ট্রদর্শন, যা রাষ্ট্র বিজ্ঞানের ইতিহাসে ‘রাষ্ট্র উৎপত্তির ঐশ্বরিক তত্ত্ব’ নামে পরিচিত। প্রত্যেকটি ধর্ম-ভিত্তিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার এটাই মূলনীতি।
অপার রহস্যে ঘেরা এ পৃথিবীর জীবন যন্ত্রণার উৎস খুঁজতে গিয়ে আদিম মানুষ দুটি ভিন্ন পথে হাঁটা শুরু করেন। একটি যুক্তিবাদী পথ, অন্যটি বিশ্বাসের পথ। এভাবে যুক্তিবাদীরা জন্ম দেন বিজ্ঞান বিষয়ক তত্ত্বের এবং বিশ্বাসীরা জন্ম দেন ধর্মতত্ত্বের। উভয় তত্ত্বের মূল উদ্দেশ্য এক। এবং তা হল জীবন ও জগতের রহস্য উদঘাটন করা। কে এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টিকর্তা, কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে এই অপার রহস্যে ঘেরা জগৎ ও জীবন, তার অনুসন্ধানের এক পর্যায়ে ধর্মতাত্বিকরা ‘আবিষ্কার’ করলেন একজন সৃষ্টিকর্তাকে যিনি স্বয়ম্ভু (যার কোন সৃষ্টিকর্তা নেই) এবং যিনি সবকিছুর সৃষ্টিকর্তা ও একমাত্র নিয়ন্ত্রণকারী। কেউ তাকে আল্লাহ, কেউ ভগবান, কেউ অন্য কোন নামে অভিহিত করেন। অন্যদিকে, বিজ্ঞান বিষয়ক তাত্ত্বিক যারা, তাঁরা খুঁজে পেলেন যাকে, সেও এক স্বয়ম্ভু স্বত্তা। তাদের এই স্বত্তার নাম হল প্রকৃতি। প্রকৃতির সেই ক্ষুদ্রতম কণার তাঁরা নাম দিলেন ‘ঈশ্বর কণা’ ( God Particle), পদার্থ বিজ্ঞানের পরিভাষায় ‘হিগস-বোসন কণা’। ধর্মতাত্ত্বিকদের মতে, তাদের ঈশ্বরকে পেতে দরকার তার উপর শর্তহীন বিশ্বাস। অন্যদিকে, বিজ্ঞান বিষয়ক তাত্তিকদের মতে, তাঁকে (ঈশ্বরকে) পাওয়া যায়, বিশ্বাস নয়, একমাত্র যুক্তিবাদী চিন্তা চেতনার প্রয়োগ এবং গবেষণার মাধ্যমে। আধুনিক বিজ্ঞান এখনো এই কাজ করে চলেছে।
প্রসঙ্গত বলে রাখি, আমার মতে, বিজ্ঞানীরাই হচ্ছেন ঈশ্বরের (প্রকৃতির) প্রকৃত সাধক। তারা তাদের সাধনার মাধ্যমেই জগতের নানান রহস্যের উৎস সন্ধান করেছেন এবং মানুষের জীবনকে অনেক বেশি সহজ ও স্বচ্ছন্দ করে তুলেছেন। আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সমস্ত কিছুই (চিকিৎসা পদ্ধতি থেকে ভোগ্য পণ্য উৎপাদন) তাদের এই ‘ঈশ্বর (প্রকৃতি) বিষয়ক সাধনা’র (গবেষণার) ফসল। অন্য দিকে, প্রাতিষ্ঠানিক ঈশ্বর তত্ত্বের সাধকরা এ কাজে প্রায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ। উল্টে, তাদের ঈশ্বর তত্ত্বের কারণেই মানুষ অসংখ্য ধর্মীয় গোষ্ঠী এবং জাতি ও বর্ণে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। শুরু হয়েছে মানুষে মানুষে সীমাহীন আত্মঘাতী লড়াই। তবে শুধুমাত্র ধর্মের কারণেই এই আত্মঘাতী সংঘর্ষ —এটা ভাবা অতি সরলীকরণ হয়ে যাবে। মূলত, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সুবিধা কুক্ষিগত করার কৌশল বা হাতিয়ার হিসেবে ধর্ম দর্শনকে ব্যবহার করা হয়ে আসছে যুগ যুগ ধরে।
আমরা যারা সাধারণ মানুষ, তাদের সমস্যা হল যুক্তিবাদী চিন্তা চেতনা এবং তাকে প্রয়োগ করে গবেষণার মাধ্যমে ঈশ্বরকে পাওয়ার কাজটা অত্যন্ত কঠিন এবং সময় সাপেক্ষ। কিন্তু কেবলমাত্র শর্তহীন বিশ্বাসের মাধ্যমে তথাকথিত ধর্মতাত্ত্বিকদের নির্দেশিত ঈশ্বরকে খুব সহজেই পাওয়া যায়—এই বিশ্বাস এবং কিছু রীতিনীতি পালনের মাধ্যমে ঈশ্বরকে পাওয়া এবং তাকে খুশি করার মধ্য দিয়ে সহজেই নিজের সমস্যার সমাধান পাওয়ার অলীক সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে চান না সাধারণ মানুষ। সাধারণ মানুষ তাই সহজেই প্রাতিষ্ঠানিক বিশ্বাসভিত্তিক ‘ঈশ্বর তত্ত্ব’ গ্রহণ করেন।
সাধারণ মানুষের এই সহজ সরল বিশ্বাসকেই যুগ যুগ ধরে কিছু চতুর ও ধুরন্ধর মানুষ ব্যবহার করে আসছেন। উৎপাদকের (সম্পদ সৃষ্টিকারী) উৎপাদিত পণ্যের একটা বড়ো অংশ আত্মসাৎ করছেন নিজস্ব শ্রম ও মেধার বিনিয়োগ ছাড়াই, শুধুমাত্র চতুরতার মাধ্যমে। ৯০ এর দশকের রাম মন্দির আন্দোলন আজকে হুমায়ূন কবীররের বাবরি মসজিদ আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী হাজার হাজার মানুষ এই বিশ্বাসে ভর করেই ইট মাথায় নিয়ে ছুটে চলেছেন, ঈশ্বরকে অথবা তার করুণা পাওয়ার বাসনায়।
এই দুই ধরনের ঈশ্বর তত্ত্বেরই মানব সমাজে গুরুত্ব রয়েছে। বিশ্বাস ভিত্তিক ঈশ্বর তত্ত্ব মানুষের মানসিক প্রশান্তি, অন্যায় কাজ থেকে বিরত থাকার অনুপ্রেরণা দেয়। অন্যদিকে ‘যুক্তিভিত্তিক ঈশ্বরতত্ত্ব’ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযন্ত্রণাকে লাঘব করে দিতে পারে। কিন্তু আফসোসের কথা হল, ধনতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায়, এই দুটো দর্শন ও তার সুবিধা পাওয়ার সুযোগকে কিছু বিশেষ শ্রেণির মানুষ কুক্ষিগত করে ফেলেছেন। বিজ্ঞানৈক আবিষ্কার ও তার সুবিধার উপকরণগুলো পেটেন্টের নাম করে কুক্ষিগত করেছেন কর্পোরেট সংস্থাগুলো। ফলে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ এর সুযোগ পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বিশ্বজুড়ে। মোবাইল ফোন থেকে শুরু করে যাবতীয় বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তির সুফল যেটুকু সাধারণ মানুষ পাচ্ছে, স্বীকার করুন বা না করুন, চিনের সমাজতান্ত্রিক ধাঁচের অর্থনীতির কারণে তা সম্ভব হচ্ছে। চিন না থাকলে এই সমস্ত প্রযুক্তি এগুলো দুর্মূল্য হয়ে গরিব ও মধ্যবিত্ত মানুষের নাগালের বাইরে থেকে যেত। অন্যদিকে, বিশ্বাসভত্তিক ঈশ্বর তত্ত্বের দখল নিয়েছে রাজনীতিক ও ধর্ম ব্যবসায়ীরা। তাদের প্রয়োজনেই তারা ধর্মগ্রন্থগুলোকে হয় সংযোজন, পরিমার্জন করেছেন অথবা ব্যাখ্যার নামে অসংখ্য শাস্ত্রগ্রন্থের জন্ম দিয়েছেন। বৈদিক ধর্মগ্রন্থ পরবর্তীকালে এভাবেই চারটি বেদ এবং ১৮ টি পুরান শাস্ত্রের অসংখ্য ধর্ম শাস্ত্রের জন্ম দিয়েছে। রাজনীতিকদের পৃষ্ঠপোষকতায় ঠিক এভাবেই ইসলাম ধর্মের মূল ধর্মগ্রন্থকেও পাশ কাটিয়ে জন্ম নিয়েছে চারটি সহি হাদিস সহ বেশ কয়েকটি হাদিস গ্রন্থ এবং অসংখ্য শাস্ত্র ও শরীয়ত গ্রন্থ।
এভাবে পৃথিবীর সমস্ত সহজ-সরল ধর্ম দর্শন এক জটিল শাস্ত্রের বৃহৎ সংকলনে পরিণত হয়েছে যা পড়া ও বোঝা সাধারণ মানুষের পক্ষে দুরূহ হয়ে উঠেছে। আর এর সুযোগেই রাজনৈতিক এবং ধর্ম ব্যবসায়ীরা সাধারণ মানুষকে ধর্মের ব্যাখ্যার নামে নিজেদের কব্জায় নিয়ে ফেলেছে। সাধারণ মানুষের যুক্তি বুদ্ধির ব্যবহার সেখানে নিষিদ্ধ হয়েছে। ফলে মানুষ ক্রমশ ধর্মান্ধ হয়ে উঠেছেন। বিশ্বাসের নামে অন্ধবিশ্বাস ও ধর্মীয় রীতিনীদের নামে কুসংস্কারের জালে জড়িয়ে পড়েছেন। আপনি যদি এভাবেই অন্ধবিশ্বাস এবং কুসংস্কারের জালে আবদ্ধ হয়ে পড়েন তাহলে নিজের দেশের সংখ্যালঘুদের জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তা বিধান কিভাবে অন্য দেশের সংখ্যালঘুদের জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তা বিধান করতে পারে তা বুঝবেন না। আর যদি এটা বুঝে থাকেন অথচ সেটাকে না মানেন তাহলে আপনি একজন ভন্ড ধার্মিক অথবা রাজনীতিক হিসেবে বিবেচিত হবেন। কেননা, সাধারণ জনগণের সমর্থন আদায় করে দেশের সম্পদের উপর নিজের গোষ্ঠী স্বার্থে সাধারণ ধর্মভীরু মানুষের ধর্মীয় আবেগকে জেনে বুঝে ও অপব্যবহার করছেন।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন