নির্বাচন ২০২৬ ও বামপন্থীদের ভাবনার বিশ্লেষণ
মানুষ, বিশেষ করে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণি তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে ভীষণভাবে ক্ষুব্ধ। খুব্ধ হওয়ার নিশ্চিত কিছু কারণও রয়েছে। এই কারণে মধ্যবিত্ত শ্রেণি তৃণমূলের পক্ষ ত্যাগ করার কথা ভাবছে। ফলে বামপন্থীদের সমর্থন বাড়ছে। অন্য দিকে এই সুযোগে বিজেপিও ক্ষমতায় আসার স্বপ্ন দেখছে। এখন এভাবে বামপন্থীরা যদি তাদের হারানো ভোট ফিরে পেতে শুরু করে, যা তৃণমূলের দিকে গিয়েছিল, তাহলে তৃণমূল সরকার নিশ্চিতভাবেই বিপদে পড়বে। সুতরাং সরকারি দল তৃণমূল খুব ভালো জায়গায় নেই। তবে হারবেই একথা নিশ্চিত করতে হলে বামপন্থীদের গুরুদায়িত্ব নিতে হবে। সে বিষয়ে পরে আসছি।
তৃণমূলের একমাত্র ভরসা খেঁটে খাওয়া মানুষের সেই অংশ, যারা শিক্ষা-দীক্ষায় এগোতে পারছেন না, মানুষ হিসেবে তাদের অধিকার কতটা, সে সম্পর্কে যাদের সম্যক ধারণা বা চেতনা নেই, তারা। এই শ্রেণির মানুষের কাছে বিভিন্ন প্রকার ভাতা পাওয়াটা, তাদের ‘চাওয়ার’ চেয়েও অনেক ‘বেশি পাওয়ার’ সামিল। একথা অত্যন্ত সঠিক যে, ভাতা পাওয়াটা খেটে খাওয়া মানুষের একধরনের অধিকার। কারণ,
১) দেশের সম্পদের সৃষ্টি ও তাকে সংহত করার কাজটা একমাত্র তারাই করে থাকেন। কিন্তু তার ন্যায্য মূল্য পাওয়ার নিশ্চয়তা আমাদের সমাজে ও রাষ্ট্র ব্যবস্থা তাদের দেয় না। ওয়েলফেয়ার স্টেট বা কল্যানমুখী রাষ্ট্রচিন্তার উৎপত্তি এ কারণেই।
২) ঠিক একারণেই আমেরিকা সহ ইউরোপের প্রায় প্রত্যেক দেশ ধনতান্ত্রিক দেশের সরকার গরীব ও মধ্যবিত্তদের এই ধরনের ভাতা দিয়ে থাকে। কিন্তু তাদের এই ভাতা পাওয়ার অর্থ এটা নয় যে, এই অধিকার পাওয়ার বিনিময়ে শাসকের দুর্নীতিকে তাদের মেনে নিতে হবে, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার বিষয়টি উপেক্ষা করতে হবে। বামপন্থীদের দায়িত্ব হল এই বিষয়টি যুক্তি, তথ্য ও বাস্তব উদাহরণ সহ এই সব খেটে খাওয়া মানুষের কাছে পৌঁছানো।
আরও পড়ুন : সরকারি অনুদান ও খেটে খাওয়া মানুষের কর্তব্য।
এই পরিস্থিতিতে মধ্যবিত্ত কোন দিকে ঝুকবেন সেটাও একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একাংশ ভাবছেন, যেই আসে আসুক, তৃণমূল যাক। তৃণমূল যাক — এটা নিয়ে কোনো বিতর্ক থাকার কথা নয় কোনো বামপন্থীদের কাছে। কিন্তু ‘যে-ই আসে আসুক’ কথাটা বিপজ্জনক। ঠিক এই বয়ান শোনা গিয়েছিল ২০১১ সালের আগে। ‘যে-ই আসে আসুক, তবুও বামপন্থীরা যাক’, ‘এর চেয়ে আর কত খারাপ হবে তারা’, ‘দরকার হলে পাঁচ বছর পর আবার পাল্টে দেবো’— এই সব শ্লোগান যে কতটা বিপদজনক ও নির্বুদ্ধিতায় ভরা ছিল, যা তখন পোড় খাওয়া বামপন্থীরা বুঝলেও, বামপন্থী সমর্থকদের অনেকই তা বোঝেননি। এখন তারা হাড়ে হাড়ে টের (দেখতে) পাচ্ছেন ভুলটা তারা কোথায় এবং কতটা করেছিলেন।
এই বামপন্থী সমর্থকরা যদি একই ভুল আবারও করেন, তাহলে তা ‘বাঙালির দুর্ভাগ্য’ বলা ছাড়া অজুহাত দেওয়ার মতো অন্য কোনো শব্দবন্ধ অবশিষ্ট থাকবে না।
১) বিজেপির প্রধান শত্রু তৃণমূল নয়, বামপন্থীরা। কারণ পৃথিবীজুড়ে যে রাজনৈতিক লড়াই সংঘটিত হয় বা যুগ যুগ ধরে চলে আসছে, তা মোটেই ধর্মকেন্দ্রিক নয়। এটা দেশ ও পৃথিবীজুড়ে সম্পদের উপর কাদের নিয়ন্ত্রণ থাকবে, তা নিশ্চিত করার লড়াই। সুতরাং এ লাড়াই মোটেও ধর্মীয় নয়, অর্থনৈতিক লড়াই। আরও খুলে বললে, সম্পদের মালিকানা কার কাছে থাকবে, যারা সম্পদ সৃষ্টির মূল কারিগর, সেই শ্রমজীবী মানুষের কাছে, না সমাজের উঁচু তলায় বসে শাসনের নাম করে দেশ প্রেমের কান্ডারী সেজে থাকা গুটিকতক মানুষ, যারা সম্পদ সৃষ্টিতে কায়িক ও বৌদ্ধিক পরিশ্রম ছাড়াই রাষ্ট্র শক্তিকে ব্যবহার করে সেই সম্পদের উপর সর্বৈব ও অবৈধ নিয়ন্ত্রণ কায়েম করতে চায়, তাদের কাছে।
এই প্রশ্নে পৃথিবী জুড়ে রাজনৈতিক দলগুলো বিভিন্ন নামে থাকলেও তারা প্রধানত দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে আছে। এই দুই পক্ষের মধ্যে কেউ চরমপন্থী, আবার কেউ নরমপন্থী। প্রথম পক্ষের হয়ে যারা কাজ করে, তাদের বলা হয় বামপন্থী আর দ্বিতীয় পক্ষের হয়ে যারা কাজ করে, তারা ডানপন্থী। তৃণমূল ও বিজেপি উভয়েই ডানপন্থায় বিশ্বাসী। এক্ষেত্রে বিজেপি চরমপন্থী আর তৃণমূল হল নরমপন্থী। আর তাদের মধ্যে যে বিরোধ, তা আসলে ভাইয়ের সঙ্গে ভাইয়ের বিরোধের মতো। ঝগড়াঝাটি হলে রাগ করে এ ভাইয়ের সংসার ছেড়ে ও ভাইয়ের সংসারে যাওয়ার মতো। এক্ষেত্রে বাড়ি পরিবর্তন করলেও তাদের লক্ষ্য কখনও পরিবর্তিত হয় না। বামপন্থীরাও একইভাবে কেউ চরমপন্থী (মাওবাদী) কেউ নরমপন্থী (সিপিএম, সিপিআই ইত্যাদি)।
অন্যদিকে ডানপন্থী ও বামপন্থীদের বিরোধটা খানিকটা দুই পাড়ার মাস্তানের মতো। কেউ এক চিলতে জমি ছাড়তে চায় না। কারণ তা ছাড়লেই তার অস্তিত্ব রক্ষার পক্ষে হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। তাই শক্তিশালী মস্তান প্রয়োজন পড়লে অন্যকে সরিয়ে দিতে ন্যায়, নীতি, বিচার, বিবেচনা, মানবাধিকার —কোনো কিছুরই তোয়াক্কা করে না। তেমনি নাগালের মধ্যে পেলে বামপন্থীদের তারা নিশ্চিহ্ন করে দেবে। তাই এই লাড়াই কোন মামুলি কিছু নয়। ইতিহাস অন্তত জোরের সঙ্গে এর সপক্ষে সাক্ষ্য দিচ্ছে।
এখন ডানপন্থিরা যেহেতু অল্প সংখ্যক এবং সুবিধাবাদী মানুষের পক্ষে কাজ করে, তাই সাধারণ মানুষের কাছে তাদের তেমন কিছু বলার থাকে না। কারণ, সাধারণ মানুষের অধিকারের জন্য তারা লড়াই করে না। আর এ কারণেই তাদের ছদ্মবেশ নিতে হয়। এই ছদ্মবেশের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত মাধ্যম বা অস্ত্র হল ধর্ম। মিশরের আখেনাটেন থেকে রোমান সম্রাট কনস্টানটাইন হয়ে মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম শাসক সহ ভারতের মৌর্য, গুপ্ত, এবং বাংলার সেন রাজারা —প্রায় প্রত্যেক শাসকেরা একইভাবে ধর্মকে ব্যবহার করেছেন সম্পদের উপর নিয়ন্ত্রণ কায়েম করার জন্য। কিন্তু ইউরোপীয় নবজাগরণ ও ফরাসি বিপ্লবের হাত ধরে ইউরোপ এই পরম্পরা থেকে মুক্ত হয়। দেশে ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার জন্ম হয়। ব্রিটিশের হাত ধরে তা ঢুকে পড়ে ভারতেও। সাধারণ মানুষ কিছুটা হলেও রাজনৈতিক, সামাজিক ও আর্থিক ব্যবস্থায় অংশগ্রহণের সুযোগ পায়। যার ফলশ্রুতিতে আমাদের সংবিধানের জন্ম।
বিজেপি এবং তৃণমূল আবার এই দেশের রাষ্ট্র কাঠামোর মধ্যে ধর্মকে যুক্ত করেছে। ধর্মকে ভালোবেসে নয়, সচেতনভাবে ধর্মকে তারা ব্যবহার করছে সেই একই উদ্দেশ্যে। আর তা হল সম্পদের ওপর মুষ্টিমেয় কিছু মানুষ যারা হয় শাসক এবং শাসকের চারপাশ ঘিরে থাকা কিছু সুবিধাভোগী মানুষের নিয়ন্ত্রণ কায়েম করতে।
এদের দ্বিতীয় মাধ্যম হল ইলেকট্রনিক মিডিয়া। তাই তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মীয় ভাবাবেগকে উস্কে দিয়ে ক্ষমতার অলিন্দে পৌঁছাতে চান, দেশের সম্পদের উপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ কায়েম করতে। তাই ধর্মের প্রতি তাদের ‘প্রেম’ জেগে ওঠে। আর এই প্রেম ছড়ানোর কাজে এরা কর্পোরেট মিডিয়াকে ব্যবহার করে। মিডিয়া তার নিজের শ্রেণির স্বার্থ রক্ষার্থেই কাজ করবে—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু অনেক বামপন্থীদের দেখা যায় মিডিয়া কেন নিরপেক্ষ নয়, তা নিয়েই ঘন্টার পর ঘন্টা আলোচনা (পড়তে পারেন ‘কান্নাকাটি’) করছেন। আসলে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ মিডিয়া বলে যে প্রচার করা হয়, তা আসলে এক বড়ো ধরণের ধোঁকাবাজি, যা মানুষকে বোকা বানানোর জন্য ব্যবহার করা হয়।
এই ধোঁকাবাজি সম্পর্কে বামপন্থীরা শুধু মুখ খোলে নয়, সাধারণ মানুষকে সচেতন করে তোলার চেষ্টা করে। শুধু তাই নয়, সম্পদের উপর সম্পদ-সৃষ্টিকারীর অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়া ও তা কার্যকর করার চেষ্টা করে। আর এ কারণেই বামপন্থীরা ডানপন্থিদের চক্ষুশূল। ইতিহাসের পাতায় আমরা হিটলারকে ইহুদী হত্যাকারী হিসেবে দেখি। কিন্ত আমরা কয়জন জানি বা বলা ভালো, আমাদের জানান হয় যে, আসলে হিটলার সে সময়ে কমিউনিস্ট হত্যায় মেতে উঠেছিলেন। আর সেকারণেই ব্রিটিশ এবং ফরাসি সাম্রাজ্যবাদী শাসকেরা সেদিন চুপচাপ দাঁড়িয়ে থেকে হিটলারকে স্বৈরাচারী হতে দিয়েছিলেন।
২) প্রকৃত বামপন্থীরা এই ধরনের পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে যেটা করতে পারবে না, তৃণমূলের নেতাকর্মীরা সেটা নিমেষেই করে ফেলবে। অর্থাৎ জোড়া ফুলের অধিকাংশ পাঁপড়ি রঙ বদলে এবং ফুলের সংখ্যা কমিয়ে নিমেষেই এক ফুলে পরিণত হবে। তাই মনে রাখতে হবে, সবচেয়ে বেশি বিপদ বামপন্থীদেরই।
সুতরাং পাল্টে যাচ্ছে ভেবে বামপন্থীরা যেন আহ্লাদিত হয়ে না বসে থাকেন। কারণ, শুধু তৃণমূল নয়, মনে রাখতে হবে, তার চেয়েও কঠিন সময় এখন বামপন্থীরাই অতিক্রম করছেন।
২) প্রকৃত বামপন্থীরা এই ধরনের পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে যেটা করতে পারবে না, তৃণমূলের নেতাকর্মীরা সেটা নিমেষেই করে ফেলবে। অর্থাৎ জোড়া ফুলের অধিকাংশ পাঁপড়ি রঙ বদলে এবং ফুলের সংখ্যা কমিয়ে নিমেষেই এক ফুলে পরিণত হবে। তাই মনে রাখতে হবে, সবচেয়ে বেশি বিপদ বামপন্থীদেরই।
সুতরাং পাল্টে যাচ্ছে ভেবে বামপন্থীরা যেন আহ্লাদিত হয়ে না বসে থাকেন। কারণ, শুধু তৃণমূল নয়, মনে রাখতে হবে, তার চেয়েও কঠিন সময় এখন বামপন্থীরাই অতিক্রম করছেন।
অন্যদিকে, একই সঙ্গে এই সময়টা বামপন্থীদের কাছে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য একটি দারুণ সুযোগও বটে।
সুযোগ যে কারণে :
১) সুযোগ এই কারণে যে, দুর্নীতি, স্বজন-পোষণ আজ সীমাহীন চেহারা নিয়েছে এবং শিক্ষা ও প্রকৃত কর্মসংস্থানের প্রশ্নে এবং নারী সুরক্ষার ক্ষেত্রে তৃণমূল ভীষণভাবে ব্যর্থ। সুতরাং শিক্ষিত ও সচেতন জনগণ ক্ষুব্ধ।
২) নিম্নবর্গের মানুষ, বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং মতুয়া সম্প্রদায়ের বড় অংশই দুই ফুলের প্রতি আস্থা হারাচ্ছেন। কারণ,
- ক) বিজেপি মতুয়াদের ঠকিয়েছেন নাগরিকত্ব দেবেন বলে, আর তৃণমূল তাদের রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন। শুধুমাত্র উত্তর ২৪ পরগনায় ৪ লক্ষ ৭৪ হাজারের মতো মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষের ভোটাধিকার বাতিল হয়েছে, যা প্রায় প্রত্যেক মতুয়া সম্প্রদায়ের পরিবারকে প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে ছুঁয়ে গেছে।
- খ) অন্যদিকে, তৃণমূল সংখ্যালঘুদের বৈধ অধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রকারান্তরে বিশ্বাসঘাতকতাই করেছে।
২) অন্যদিকে বিপদ যে কারণে, আজ বিজেপি যেভাবে পেছন থেকে ঢোকার চেষ্টা করছে, যা তারা অন্ধ্রপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, হিমাচল প্রদেশ এবং সর্বশেষে বিহারে সফলভাবে প্রয়োগ করতে পেরেছে, বিজেপি শাসন ক্ষমতায় চলে এলে, তাদের এই ক্ষমতা ও সাফল্যের হার কমপক্ষে আরও ৫ গুণ বেড়ে যাবে। উত্তর ও উত্তর পশ্চিম ভারতের ব্রাহ্মণ্যবাদী মানুষের, বিশেষ করে বিজেপির নেতা-কর্মীদের বড় অংশের মধ্যে বহুকাল ধরে বয়ে চলা বাঙালি বিদ্বেষ যে ভয়ংকর চেহারা নেবে তা ঐতিহাসিক ও বর্তমান তথ্য ঘাঁটলে এমনই আশঙ্কার কথা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের ওপর যে অত্যাচার ও নির্যাতনের ঘটনা সামনে আসছে, তা এই আশঙ্কার কথাকে যৌক্তিক মোড়ক দিচ্ছে।
সুতরাং এখনি বামপন্থীদের বামফ্রন্টের ইস্তেহার নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। পাড়ায় পাড়ায়, নিজের এলাকার মোড়ে মোড়ে, ছোট ছোট কথামালা সাজিয়ে অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে, ধৈর্য সহকারে একান্ত আপন জনের মতো পাশে দাঁড়িয়ে দুই ফুলের গলাগলি এবং তাদের চরিত্রগত ‘আপাত পার্থক্য’ এবং ‘অন্তর্নিহিত মিল’ যা সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ এবং মধ্যবিত্তদের সর্বনাশের নীল নকশায় মোড়া, যা তারা দেখতে পারছেন না, তা স্পষ্ট করে তুলতে হবে।
এটা যদি বামপন্থীরা করতে না পারেন, কঠিন পরিস্থিতির জন্য তাঁদের তৈরি থাকতে হবে।
৩) বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে কী চলছে, তা মেনস্ট্রিম মিডিয়া দেখায় না। সঙ্গত কারণেই, অর্থাৎ তাদের শ্রেণি স্বার্থেই তা তারা দেখাবেও না। সোশ্যাল মিডিয়ার ইন্ডিপেন্ডেন্ট নিউজ চ্যানেলগুলো থেকে তথ্য সংগ্রহ করে বামপন্থীদের জানতে হবে এবং সাধারণ মানুষকে তা জানানোর ব্যবস্থা করতে হবে।
মাথায় রাখতে হবে, এর কোন বিকল্প নেই। এটা যদি বামপন্থীরা করতে ব্যর্থ হন, তাহলে তৃণমূলের প্রতি মানুষের যে ক্ষোভ যা আমাদের প্রচারের মাধ্যমে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে, তা বিজেপির ঝুলিতে পৌঁছবে। এবং এটা হতে দেওয়া বামপন্থীদের জন্য আত্মহত্যার সামিল হয়ে উঠবে।
সুতরাং এখনি বামপন্থীদের বামফ্রন্টের ইস্তেহার নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। পাড়ায় পাড়ায়, নিজের এলাকার মোড়ে মোড়ে, ছোট ছোট কথামালা সাজিয়ে অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে, ধৈর্য সহকারে একান্ত আপন জনের মতো পাশে দাঁড়িয়ে দুই ফুলের গলাগলি এবং তাদের চরিত্রগত ‘আপাত পার্থক্য’ এবং ‘অন্তর্নিহিত মিল’ যা সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ এবং মধ্যবিত্তদের সর্বনাশের নীল নকশায় মোড়া, যা তারা দেখতে পারছেন না, তা স্পষ্ট করে তুলতে হবে।
এটা যদি বামপন্থীরা করতে না পারেন, কঠিন পরিস্থিতির জন্য তাঁদের তৈরি থাকতে হবে।
৩) বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে কী চলছে, তা মেনস্ট্রিম মিডিয়া দেখায় না। সঙ্গত কারণেই, অর্থাৎ তাদের শ্রেণি স্বার্থেই তা তারা দেখাবেও না। সোশ্যাল মিডিয়ার ইন্ডিপেন্ডেন্ট নিউজ চ্যানেলগুলো থেকে তথ্য সংগ্রহ করে বামপন্থীদের জানতে হবে এবং সাধারণ মানুষকে তা জানানোর ব্যবস্থা করতে হবে।
মাথায় রাখতে হবে, এর কোন বিকল্প নেই। এটা যদি বামপন্থীরা করতে ব্যর্থ হন, তাহলে তৃণমূলের প্রতি মানুষের যে ক্ষোভ যা আমাদের প্রচারের মাধ্যমে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে, তা বিজেপির ঝুলিতে পৌঁছবে। এবং এটা হতে দেওয়া বামপন্থীদের জন্য আত্মহত্যার সামিল হয়ে উঠবে।
ফিলিস্তিন ও মতুয়াদের ভোটাধিকার হরণ যোগ করতে হবে।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন