আপনি কি আল্লাহকে সত্যিই ভালোবসেন? আপনি বলছেন, ধর্মের জন্য হাসতে হাসতে প্রাণ দিতে পারি। প্রশ্ন হল, আপনি প্রাণ দিয়ে দিলে ধর্মটা পালন করবে কে? এভাবে সব মুসলমান যদি সত্যিকারের আল্লাহ প্রেমিক হয়ে যান, তবে আল্লাহই তো তাঁর তৈরি পৃথিবীতে অস্তিত্বের সংকটে পড়ে যাবেন। আপনি বলছেন আল্লাহর সেবায়, প্রাণ দিতে পারি। বেশ। প্রশ্ন হল, আপনি যদি প্রাণ দিয়ে দেন, তবে তার খেদমত করবে কে? তাছাড়া, আল্লাহর যদি আপনার সেবার এতটাই দরকার হয় ভাবেন, তবে তিনি সর্ব শক্তিমান — এটা মানছেন কই? সর্ব শক্তিমান কখনই নিজের সেবা চান না, চাইলে তার সৃষ্টির সেবাই চাইবেন। আদৌ তার যদি তা দরকার হয়! সুতরাং অতিভক্তি ধার্মিকতা নয়, মানুষের কল্যাণ ও ভালোবাসাই আসল ধর্ম।
ধর্মের নামে রাজনীতিই প্রমাণ করে আমরা মধ্যযুগীয় ভারতবর্ষে এখনও যে ধর্মের নামে রাজনীতি হয় বা হচ্ছে, তাতেই প্রমাণ হয় আমরা আধুনিক নয়, চিন্তায়-চেতনায় এখনো মধ্যযুগে বাস করি। কারণ, আধুনিক যুগের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য আছে। কোন জাতি, নিজেকে আধুনিক বলে দাবি করতে চাইলে, এই বৈশিষ্ট্যগুলো তাদের মধ্যে থাকা প্রয়োজন। এর মধ্যে একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো হল ধর্ম-মুক্ত রাজনীতি। পৃথিবীর যেখানে যেখানে রাজনীতি ধর্মমুক্ত হয়েছে, সেখানে সেখানে রাজনৈতিক হিংসা হানাহানি অনেক কমে গেছে। প্রতিষ্ঠিত হয়েছে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা, যা আধুনিকতার দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর দিকে তাকালেই বুঝতে পারা যায় ধর্মের সঙ্গে রাজনীতি সম্পর্কিত থাকলে কি ভয়ংকর রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়। বোঝা যায়, কীভাবে নিরবিচ্ছিন্ন অস্থিরতা ও রাজনৈতিক হিংসা এবং প্রতিহিংসার দাপটে একটা জাতি শতধাবিভক্ত হয়ে পড়ে। মূলত এ কারণেই, অসংখ্য ছোট ছোট, বলা ভালো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাষ্ট্রে বিভক্ত হয়ে পড়েছে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য। ফলে সাম্রাজ্যবাদী বৃহৎ রাষ্ট্রগুলোর নয়া সাম্রাজ্যবাদী নাগপাশ ...