নির্বাচন ২০২৬ ও বামপন্থীদের ভাবনার বিশ্লেষণ দারুণ বলেছেন। এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বামপন্থীরা যদি অন্ততপক্ষে দ্বিতীয় স্থানে না আসতে পারে, আমার ধারণা, বামপন্থীরা ভয়ংকর ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে। কারণ, মনে রাখতে হবে — ১) বিজেপির প্রধান শত্রু তৃণমূল নয়, বামপন্থীরা। ২) প্রকৃত বামপন্থীরা এই পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে যেটা করতে পারবে না, তৃণমূলের নেতাকর্মীরা সেটা নিমেষেই করে ফেলবে। অর্থাৎ জোড়া ফুলের অধিকাংশ পাঁপড়ি রঙ বদলে এবং ফুলের সংখ্যা কমিয়ে নিমেষেই এক ফুলে পরিণত হবে। তাই সবচেয়ে বেশি বিপদ বামপন্থীদেরই। সুতরাং পাল্টে যাচ্ছে ভেবে বামপন্থীরা যেন আহ্লাদিত হয়ে বসে না যায়। কারণ, তৃণমূলের চেয়েও বামপন্থীদের কাছে এটা অত্যন্ত কঠিন সময় এবং সেই সঙ্গে একটা দারুণ সুযোগও বটে। ১) সুযোগ এই কারণে যে, দুর্নীতি, স্বজন-পোষণ সীমাহীন চেহারা নিয়েছে এবং শিক্ষা ও প্রকৃত কর্মসংস্থানের প্রশ্নে এবং নারী সুরক্ষার ক্ষেত্রে তারা ভীষণভাবে ব্যর্থ। সুতরাং শিক্ষিত ও সচেতন জনগণ ক্ষুব্ধ। ২) নিম্নবর্গের মানুষ বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং মতুয়া সম্প্রদায়ের বড় অংশই দুই ফুলের প্রতি আস্থা হা...
ইতিহাস কী? ইতিহাস হচ্ছে মানুষের তৃতীয় নয়ন। এই তৃতীয় নয়ন মানুষকে অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ বিষয়ে সঠিকভাবে পর্যবেক্ষণ করতে সাহায্য করে। এই পর্যবেক্ষণই জগত এবং জীবনের প্রকৃত সত্য উপলব্ধি করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। একজন মানুষ, জগত ও জীবন সম্পর্কে প্রকৃত সত্য যতটা উপলব্ধি করতে পারেন, তিনি ততটাই শিক্ষিত বলে বিবেচিত হন। তাই ইতিহাস জানা এবং বোঝা ছাড়া একজন মানুষ পূর্ণাঙ্গ শিক্ষিত হয়ে উঠতে পারেন না। ইতিহাস কেন তৃতীয় নয়ন? একটা উদাহরণ নেওয়া যাক। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কথা ধরুন। আমরা এই ঘটনাকে যখন প্রত্যক্ষ করি, তখন দেখি দুটি ভিন্ন ধর্মের মানুষ পরস্পর পরস্পরের বিরুদ্ধে সহিংস হয়ে উঠছে। আমরা খুব সহজেই এই ঘটনাকে ধর্মের সঙ্গে জুড়ে দিই এবং ধর্মকে এর কারণ হিসেবে চিহ্নিত করি। ধর্মীয় বিদ্বেষের ফল হিসেবে সেগুলোকে ব্যাখ্যা করি। কিন্তু সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ইতিহাসকে কার্যকারণ সম্পর্কের উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, এই দাঙ্গাগুলোর পিছনে ধর্মের চেয়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উদ্দেশ্য খুবই শক্তিশালী ভূমিকায় রয়েছে। অর্থাৎ মূলত, ...