সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

2026 থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

সরকারি অনুদান ও গরিব মানুষের কর্তব্য

সরকারি অনুদান ও গরিব মানুষের কর্তব্য : সরকারি অনুদান পাওয়া গরীব ও নিম্নবিত্ত মানুষের হক। কিন্তু তা কখনও দূর্নীতি ও সজনপোষণে স্বীকৃতি দেওয়ার বিনিময়ে নয়। হক কেন? সম্পদের আসল মালিক : হক এই কারণে, পৃথিবীর সমস্ত সম্পদের প্রকৃত মালিক হচ্ছেন খেটে খাওয়া মানুষ। কারণ, তাদের মেধা ও শ্রমের বিনিময়েই পৃথিবীতে প্রথম সম্পদের জন্ম হয়েছে। এখনও সেভাবেই হয়। একদলা মাটি থেকে ইট তৈরি হওয়া, তা দিয়ে মামুলি বাড়ি কিংবা প্রাসাদের মত পার্লামেন্ট ভবন, কিংবা মোটা চালের ভাত থেকে সরু বাসমতি চালের উৎপাদন, এক কথায় মানুষের বেঁচে থাকার, ভালো থাকার সমস্ত উপকরণ তৈরিতে যার শ্রম ও মেধার কোন বিকল্প নেই তিনি হচ্ছেন এই শ্রমজীবী মানুষ। অথচ সম্পদের স্রষ্টা যারা, তারাই কখনও বিনা চিকিৎসায় মরেন, কখনও না খেয়ে মরেন অথবা আধপেটা খেয়ে বা অখাদ্য কুখাদ্য খেয়ে ধুকে ধুকে মরেন। এর থেকে মুক্তি পাওয়া দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে। আর এটা যে করা যাচ্ছে, তার কারণ হচ্ছে আমাদের অজ্ঞতা, এবং প্রচলিত রাষ্ট্র ব্যবস্থার আড়ালে লুকিয়ে রাখা কৌশলী শোষণ নীতি, যার স্তম্ভ হল বিশ্বব্যাপী প্রচলিত মুদ্রা ব্যবস্থা নামক ফেক বিনিময় ব্যবস্থা। এর মাধ্যমেই...

ধর্ম কেন এবং কীভাবে পালনীয়?

ধর্ম কেন এবং কীভাবে পালনীয়? (১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সূর্যসেন পার্ক শ্রী শ্রী হরিচাঁদ সেবা সংঘের ৪৪ তম মতুয়া ধর্ম সম্মেলন ও লোকসংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্য) সম্মানীয় সভাপতি, মঞ্চে উপবিষ্ট গুণীজন, সামনে উপবিষ্ট মা, বোন, ভাই এবং সন্তানসমান ছেলেমেয়েরা, সর্বোপরি আমার এই কণ্ঠস্বর মাইক্রোফোনের মাধ্যমে যাদের কান পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে, তাদের সকলকে আমার আন্তরিক প্রীতি, শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা।  আজ আমরা শ্রী শ্রী হরিচাঁদ সেবা সংঘের ধর্ম সম্মেলনে উপস্থিত হয়েছি। কিন্তু প্রশ্ন হল, কেন হয়েছি? এই কেন-র সঠিক উত্তর যদি আমার আপনার জানা না থাকে, তাহলে এই সম্মেলনে আসার যে উদ্দেশ্য, তা ব্যর্থ হবে। আসুন আমরা বোঝার চেষ্টা করি। আমরা সবাই জানি, এই ধরনের ধর্ম সম্মেলনে কিংবা মন্দির মসজিদে আমরা কেন যাই। যাই আমাদের মত প্রান্তিক ও নিম্নবর্গের (নিম্নবর্ণ কথাটা আমি ব্যবহার করি না) মানুষের দুঃখ দুর্দশা ঘোচানো এবং সুখী হওয়ার বাসনায়। আল্লাহ বা ভগবান এই কাজে আমাকে সাহায্য করবেন— এই আশায়। কিন্তু আমাদের সমস্যা হল, আমরা জানি না, আমার-আপনার ভগবান কিম্বা আল্লাহ ঠিক কী করলে সত্যি সত্যিই খুশি হন। কারণ, আমরা এ বিষয়ে পড়া...

ফ্যাসিবাদের লক্ষণ

ফ্যাসিবাদের লক্ষণ ফ্যাসিবাদ কী? ফ্যাসিবাদ হচ্ছে একটি চরম ডানপন্থী, স্বৈরাচারী এবং জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক মতাদর্শ ও শাসনব্যবস্থা। এটি ২০শ শতকের শুরুর দিকে ইউরোপে বিশেষ করে ইতালিতে বেনিতো মুসোলিনির নেতৃত্বে বিকশিত হয়। ‘ফ্যাসিস’ শব্দটি এসেছে লাতিন শব্দ ‘ফ্যাসেস’ থেকে, যা রোমের শাসকদের লিকটররা বহন করত—এটি ছিল কুঠারের চারপাশে বাঁধা লাঠির রাশি, যা ঐক্য ও কর্তৃত্বের প্রতীক। ফ্যাসিবাদের মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ : 1. চরম জাতীয়তাবাদ: নিজ দেশ ও জাতিকে সবকিছুর উর্ধ্বে স্থান দেওয়া এবং ‘অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক শত্রু’র বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান। 2. স্বৈরাচারী নেতৃত্ব: একজন সর্বেসর্বা নেতা (যেমন: হিটলার বা মুসোলিনি) যিনি রাষ্ট্রের সবকিছুর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী এবং তাঁর প্রতি জনগণের অন্ধ ভক্তি প্রত্যাশিত হয়। 3. এক-দলীয় শাসন: দেশে কেবল একটি দল চলতে পারে, অন্য সব রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়। 4. বিরোধী দল দমন: সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, বাকস্বাধীনতা এবং ভিন্নমত পোষণের কোনো সুযোগ নেই। পুলিশ ও গোয়েন্দা বাহিনীর মাধ্যমে বিরোধীদের নির্মমভাবে দমন করা হয়। 5. সামরিকবাদ: সেনাবাহিনী ও যুদ্ধকে মহিমান্বিত ...

ধর্ম ও ধর্মান্ধতা কী?

ধর্ম ও ধর্মান্ধতার পার্থক্য কী? ধর্ম ও ধর্মান্ধতা এক জিনিস নয়। ধর্ম মানুষকে ভালবাসতে শেখায়। ধর্মান্ধতা অনেক সময়ই মানুষকে হত্যা করতে প্ররোচিত করে। ধর্ম সহনশীল হতে শেখায়। ধর্মান্ধতা মানুষকে উগ্র ও সাম্প্রদায়িক করে তোলে। ধর্ম মানুষকে নীতি ও নৈতিকতার শিক্ষা দেয়। ধর্মান্ধতা নীতিহীন করে না তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাকে যুক্তি বুদ্ধির বাইরে চালিত করে। মানবিক করে তোলে। যাকে সে ভালোবাসতে পারবে না, একজন ধার্মিক মানুষ তাকে ঘৃণাও করতে পারবেন না। বরং বিপদের দিনে তার পাশে দাঁড়াতে ইতস্তত করবে না। ধর্মান্ধ মানুষ উল্টো আচরণ করে।

চাকরি পাওয়ার শর্ত

চাকরি পাওয়ার শর্ত : চাকরি পেতে গেলে প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হয়, চাকরি পাবার যোগ্যতা অর্জন করতে হয়। চাকরি কেউ দেয় না, চাকরি অর্জন করতে হয়, অন্যকে প্রতিযোগিতায় হারিয়ে। এর জন্য দরকার বিদ্যা, বুদ্ধি আর কঠোর পরিশ্রম। ধর্মীয় আর রাজনৈতিক নেতাদের দাস হয়ে যারা সহজেই বেহেশত আর সরকারি চাকরি পাওয়ার আশা করে থাকেন, তারা জেনে রাখুন ২.১% (মুসলিমদের চাকরির হার) এর এই ফিগার কোনদিনই বদলাবে না। আসাদ উদ্দিন অথবা আব্বাস সিদ্দিকী, যাকেই ভোট দেন না কেন। আলী হোসেন লেখাটির উৎস দেখুন ফেসবুকে ।

আলী হোসেনের বহুল-পঠিত উক্তিগুলো পড়ুন

ইতিহাস কী?

ইতিহাস কী? ইতিহাস হচ্ছে মানুষের তৃতীয় নয়ন। এই তৃতীয় নয়ন মানুষকে অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ বিষয়ে সঠিকভাবে পর্যবেক্ষণ করতে সাহায্য করে। এই পর্যবেক্ষণই জগত এবং জীবনের প্রকৃত সত্য উপলব্ধি করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। একজন মানুষ, জগত ও জীবন সম্পর্কে  প্রকৃত সত্য যতটা উপলব্ধি করতে পারেন, তিনি ততটাই শিক্ষিত বলে বিবেচিত হন। তাই ইতিহাস জানা এবং বোঝা ছাড়া একজন মানুষ পূর্ণাঙ্গ শিক্ষিত হয়ে উঠতে পারেন না। ইতিহাস কেন তৃতীয় নয়ন? একটা উদাহরণ নেওয়া যাক। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কথা ধরুন। আমরা এই ঘটনাকে যখন প্রত্যক্ষ করি, তখন দেখি দুটি ভিন্ন ধর্মের মানুষ পরস্পর পরস্পরের বিরুদ্ধে সহিংস হয়ে উঠছে। আমরা খুব সহজেই এই ঘটনাকে ধর্মের সঙ্গে জুড়ে দিই এবং ধর্মকে এর কারণ হিসেবে চিহ্নিত করি। ধর্মীয় বিদ্বেষের ফল হিসেবে সেগুলোকে ব্যাখ্যা করি। কিন্তু সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ইতিহাসকে কার্যকারণ সম্পর্কের উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, এই দাঙ্গাগুলোর পিছনে ধর্মের চেয়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উদ্দেশ্য খুবই শক্তিশালী ভূমিকায় রয়েছে। অর্থাৎ মূলত, ...

ধর্মের নামে রাজনীতিই প্রমাণ করে আমরা মধ্যযুগীয়

ধর্মের নামে রাজনীতিই প্রমাণ করে আমরা মধ্যযুগীয় ভারতবর্ষে এখনও যে ধর্মের নামে রাজনীতি হয় বা হচ্ছে, তাতেই প্রমাণ হয় আমরা আধুনিক নয়, চিন্তায়-চেতনায় এখনো মধ্যযুগে বাস করি। কারণ, আধুনিক যুগের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য আছে। কোন জাতি, নিজেকে আধুনিক বলে দাবি করতে চাইলে, এই বৈশিষ্ট্যগুলো তাদের মধ্যে থাকা প্রয়োজন। এর মধ্যে একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো হল ধর্ম-মুক্ত রাজনীতি। পৃথিবীর যেখানে যেখানে রাজনীতি ধর্মমুক্ত হয়েছে, সেখানে সেখানে রাজনৈতিক হিংসা হানাহানি অনেক কমে গেছে। প্রতিষ্ঠিত হয়েছে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা, যা আধুনিকতার দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর দিকে তাকালেই বুঝতে পারা যায় ধর্মের সঙ্গে রাজনীতি সম্পর্কিত থাকলে কি ভয়ংকর রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়। বোঝা যায়, কীভাবে নিরবিচ্ছিন্ন অস্থিরতা ও রাজনৈতিক হিংসা এবং প্রতিহিংসার দাপটে একটা জাতি শতধাবিভক্ত হয়ে পড়ে। মূলত এ কারণেই, অসংখ্য ছোট ছোট, বলা ভালো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাষ্ট্রে বিভক্ত হয়ে পড়েছে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য। ফলে সাম্রাজ্যবাদী বৃহৎ রাষ্ট্রগুলোর নয়া সাম্রাজ্যবাদী নাগপাশ ...

ধর্ম দিয়ে ধর্মান্ধতা দূর করা যায় না।

ধর্ম দিয়ে ধর্মান্ধতা দূর করা যায় না প্রাতিষ্ঠানিক ধর্ম দিয়ে ধর্মান্ধতা দূর করা যায় না। কারণ দুটোরই ভিত্তি হচ্ছে যুক্তিবিমুখ বিশ্বাস। তাই, কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলা হয়তো যায়। কিন্তু ধর্ম দিয়ে ধর্মান্ধতা দূর করা কখনই যায় না। একথা ভুলতে বসেছেন যাঁরা, তাঁরা নিজেদের প্রগতিশীল দাবি করতেই পারেন। কিন্তু মনে রাখতে হবে, এতে প্রগতিশীলতা গতিলাভ করে না বরং গতি হারায়। --------x------- Di Ansar Ali হ্যা, পরিস্থিতি অনুযায়ী সমঝোতা করতে হয়। কিন্তু মাথায় রাখতে হয়, তাতে আমার সত্যিই কোনো লাভ হচ্ছে কিনা। এবং তার অদূর ও সুদূরপ্রসারী ফলাফল প্রগতিশীল চিন্তাচেতনার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ। নিজের নাক কেটে পরের যাত্রা ভঙ্গ করাটা মোটেই যুক্তিযুক্ত নয় বলেই মনে হয়। কারণ, তাতে পরের যাত্রা হয়তো ভঙ্গ হয়, কিন্তু নিজের শরীরে ভয়ঙ্কর ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়ার দখলদারি বেড়ে যেতে পারে। আমার মনে হয়, এই হিসাবটা ঠিকঠাক না করতে পারলে পরিস্থিতি অনুকূলে আসার পরিবর্তে প্রতিকূলে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি থাকে। এক্ষেত্রে 'দশচক্রে ভগবান ভুত হওয়ার' বিষয়টিও মাথায় রাখার প্রয়োজন খুব বেশি বলেই আমি মনে করি। যারা প্রগতিশীল নয়, বলে এতদি...

বিজেপি ও আরএসএস কি আলাদা?

বিজেপি ও আরএসএস কি আলাদা? বিজেপি ও আরএসএস-এর রসায়ন সম্পর্কে সম্যক অবহিত আছেন, এমন মানুষদের সবাই জানেন বিজেপির সঙ্গে আরএসএস-এর গভীর সম্পর্কের কথা। এবং তাঁরা এটাও জানেন যে, আরএসএস দ্বারা বিজেপি নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত হয়। তাই এই দুই সংগঠনকে আপাতদৃষ্টিতে আলাদা মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে এরা আলাদা নয়। বরং এরা একে অপরের পরিপূরক। বিস্তারিত দেখুন এখানে ক্লিক করে

বিজ্ঞান শিক্ষার পরিবর্তে ধর্মশিক্ষার প্রচলন ও তার পরিণতি

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্ম শিক্ষার প্রভাব দেশের বড় বড় বিজ্ঞান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেভাবে বেদ ও পুরাণসহ ধর্মশাস্ত্র পড়ানোর ধুম লেগেছে তাতে ভারতবর্ষ খুব তাড়াতাড়ি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মত অশিক্ষার কানাগলিতে ঢুকে যাবে। এভাবে চলতে থাকলে,বলা ভালো যেতে বাধ্য হবে। শিবপুর আই আই ই এস টি তে যেভাবে বেদ ও পুরাণ ভিত্তিক কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে তাতে এই আশঙ্কা প্রকট হয়ে উঠছে। সেই সঙ্গে গোলওয়ালকরের ছবি ও বই রেখে যেভাবে বিচ্ছিন্নতা ও সাম্প্রদায়িক মনোভাবাপন্ন মতাদর্শকে হাইলাইট করা হচ্ছে তাতে ভারতের ভবিষ্যত দুর্দশার রূপটি স্পস্ট হয়ে উঠছে। বিস্তারিত পড়তে এখানে ক্লিক করুন ফেসবুকে দেখুন এখানে ক্লিক করে