ধর্মনিরপেক্ষতা সম্পর্কে অমর্ত্য সেনের মতামত ও আলী হোসেন: শ্রদ্ধেয় অমর্ত্য সেনের কথার সঙ্গে আমার মতামতের বোধহয় কোনো পার্থক্য নেই। আমি যে শিক্ষিত মানুষদের কথা সেদিন বলেছিলাম , তা এই মতের অনুসারীদের কথাই, যা গতকাল অমর্ত্য সেন বললেন। অমর্ত্য সেন সেই শিক্ষিত মানুষদেরই প্রতিনিধি ও পথপ্রদর্শক। বাংলার ধর্মনিরপেক্ষতা বজায় রাখায় রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের তুলনায় বাম এবং অন্যান্য ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলির দায়বদ্ধতা কোনও অংশেই কম হওয়া উচিত নয়। — অমর্ত্য সেন আসুন দেরি হয়ে যাওয়ার আগেই নিজেদের শুধরে নেই। সাম্প্রদায়িক দল ও মতকে উপেক্ষা করি। মনে রাখি, জাতি কিংবা ধর্মবিদ্বেষ কখনই কোনো দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে না। ইতিহাসের পাতায় পাতায় তার প্রমাণ রয়েছে। আসুন সত্য ও নিরপেক্ষ ইতিহাসের পাতায় নজর রাখি আর জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে একটা সুন্দর মানব সমাজ গড়ে তোলার জন্য হাতে হাত মেলাই। প্রসঙ্গ দেখুন এখানে এবং এখানে
ইতিহাস কী? ইতিহাস হচ্ছে মানুষের তৃতীয় নয়ন। এই তৃতীয় নয়ন মানুষকে অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ বিষয়ে সঠিকভাবে পর্যবেক্ষণ করতে সাহায্য করে। এই পর্যবেক্ষণই জগত এবং জীবনের প্রকৃত সত্য উপলব্ধি করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। একজন মানুষ, জগত ও জীবন সম্পর্কে প্রকৃত সত্য যতটা উপলব্ধি করতে পারেন, তিনি ততটাই শিক্ষিত বলে বিবেচিত হন। তাই ইতিহাস জানা এবং বোঝা ছাড়া একজন মানুষ পূর্ণাঙ্গ শিক্ষিত হয়ে উঠতে পারেন না। ইতিহাস কেন তৃতীয় নয়ন? একটা উদাহরণ নেওয়া যাক। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কথা ধরুন। আমরা এই ঘটনাকে যখন প্রত্যক্ষ করি, তখন দেখি দুটি ভিন্ন ধর্মের মানুষ পরস্পর পরস্পরের বিরুদ্ধে সহিংস হয়ে উঠছে। আমরা খুব সহজেই এই ঘটনাকে ধর্মের সঙ্গে জুড়ে দিই এবং ধর্মকে এর কারণ হিসেবে চিহ্নিত করি। ধর্মীয় বিদ্বেষের ফল হিসেবে সেগুলোকে ব্যাখ্যা করি। কিন্তু সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ইতিহাসকে কার্যকারণ সম্পর্কের উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, এই দাঙ্গাগুলোর পিছনে ধর্মের চেয়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উদ্দেশ্য খুবই শক্তিশালী ভূমিকায় রয়েছে। অর্থাৎ মূলত, ...