ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের প্রতি দরদ না ভন্ডামি! ধর্মের ভিত্তিতে সংখ্যালঘু —এই বিষয়টিকে আপনি যদি স্বীকৃতি দেন (এভাবে ভাবা যদিও অযৌক্তিক) এবং নিজের ধর্মের মানুষ হিসেবে আপনি যদি কোন জনগোষ্ঠীকে আপন বলে ভাবেন, তাদের দুঃখ-কষ্ট যদি আপনাকে কষ্ট দেয়, তাহলে নিজের দেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের প্রতি আপনার সবচেয়ে বেশি নজর রাখা উচিৎ। কারণ, আপনার দেশে যারা সংখ্যালঘু, অন্য কোন দেশে তারাই সংখ্যাগুরু। আপনার দেশে সংখ্যালঘুরা যদি শান্তিতে থাকতে না পারেন, বৈষম্যের শিকার হওয়াকে আপনি যদি আটকাতে না পারেন, তাহলে অন্য দেশে আপনার ধর্মের সংখ্যালঘু মানুষকে নিরাপদ রাখার বিষয়টি অযৌক্তিক এবং কার্যত কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। মনে রাখতে হবে, ধর্মীয় কারণে যারা সংখ্যালঘুদের বঞ্চিত করেন, তারা মানবিক গুণসম্পন্ন নয়। তারা সম্পূর্ণ স্বার্থান্ধ এক শ্রেণি, যারা অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সম্পদের সুষম বন্টন তত্ত্বে বিশ্বাস করেন না। অন্যদিকে সামাজিক ও ধর্মীয় ব্যবস্থায় তারা বর্ণবাদে (উঁচুজাত ও নিচুজাত তত্ত্বে) বিশ্বাসী। আপনি যদি আপনার দেশে এই স্বার্থান্ধ ও ধর্মান্ধ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত হন, তবে আপনার মাথায় রাখা উচিত, যে আপনার মতো এই শ্রেণির মানব...
ইতিহাস কী? ইতিহাস হচ্ছে মানুষের তৃতীয় নয়ন। এই তৃতীয় নয়ন মানুষকে অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ বিষয়ে সঠিকভাবে পর্যবেক্ষণ করতে সাহায্য করে। এই পর্যবেক্ষণই জগত এবং জীবনের প্রকৃত সত্য উপলব্ধি করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। একজন মানুষ, জগত ও জীবন সম্পর্কে প্রকৃত সত্য যতটা উপলব্ধি করতে পারেন, তিনি ততটাই শিক্ষিত বলে বিবেচিত হন। তাই ইতিহাস জানা এবং বোঝা ছাড়া একজন মানুষ পূর্ণাঙ্গ শিক্ষিত হয়ে উঠতে পারেন না। ইতিহাস কেন তৃতীয় নয়ন? একটা উদাহরণ নেওয়া যাক। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কথা ধরুন। আমরা এই ঘটনাকে যখন প্রত্যক্ষ করি, তখন দেখি দুটি ভিন্ন ধর্মের মানুষ পরস্পর পরস্পরের বিরুদ্ধে সহিংস হয়ে উঠছে। আমরা খুব সহজেই এই ঘটনাকে ধর্মের সঙ্গে জুড়ে দিই এবং ধর্মকে এর কারণ হিসেবে চিহ্নিত করি। ধর্মীয় বিদ্বেষের ফল হিসেবে সেগুলোকে ব্যাখ্যা করি। কিন্তু সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ইতিহাসকে কার্যকারণ সম্পর্কের উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, এই দাঙ্গাগুলোর পিছনে ধর্মের চেয়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উদ্দেশ্য খুবই শক্তিশালী ভূমিকায় রয়েছে। অর্থাৎ মূলত, ...