ধর্ম কেন এবং কীভাবে পালনীয়? (১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সূর্যসেন পার্ক শ্রী শ্রী হরিচাঁদ সেবা সংঘের ৪৪ তম মতুয়া ধর্ম সম্মেলন ও লোকসংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্য) সম্মানীয় সভাপতি, মঞ্চে উপবিষ্ট গুণীজন, সামনে উপবিষ্ট মা, বোন, ভাই এবং সন্তানসমান ছেলেমেয়েরা, সর্বোপরি আমার এই কণ্ঠস্বর মাইক্রোফোনের মাধ্যমে যাদের কান পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে, তাদের সকলকে আমার আন্তরিক প্রীতি, শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। আজ আমরা শ্রী শ্রী হরিচাঁদ সেবা সংঘের ধর্ম সম্মেলনে উপস্থিত হয়েছি। কিন্তু প্রশ্ন হল, কেন হয়েছি? এই কেন-র সঠিক উত্তর যদি আমার আপনার জানা না থাকে, তাহলে এই সম্মেলনে আসার যে উদ্দেশ্য, তা ব্যর্থ হবে। আসুন আমরা বোঝার চেষ্টা করি। আমরা সবাই জানি, এই ধরনের ধর্ম সম্মেলনে কিংবা মন্দির মসজিদে আমরা কেন যাই। যাই আমাদের মত প্রান্তিক ও নিম্নবর্গের (নিম্নবর্ণ কথাটা আমি ব্যবহার করি না) মানুষের দুঃখ দুর্দশা ঘোচানো এবং সুখী হওয়ার বাসনায়। আল্লাহ বা ভগবান এই কাজে আমাকে সাহায্য করবেন— এই আশায়। কিন্তু আমাদের সমস্যা হল, আমরা জানি না, আমার-আপনার ভগবান কিম্বা আল্লাহ ঠিক কী করলে সত্যি সত্যিই খুশি হন। কারণ, আমরা এ বিষয়ে পড়া...
ধর্মের নামে রাজনীতিই প্রমাণ করে আমরা মধ্যযুগীয় ভারতবর্ষে এখনও যে ধর্মের নামে রাজনীতি হয় বা হচ্ছে, তাতেই প্রমাণ হয় আমরা আধুনিক নয়, চিন্তায়-চেতনায় এখনো মধ্যযুগে বাস করি। কারণ, আধুনিক যুগের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য আছে। কোন জাতি, নিজেকে আধুনিক বলে দাবি করতে চাইলে, এই বৈশিষ্ট্যগুলো তাদের মধ্যে থাকা প্রয়োজন। এর মধ্যে একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো হল ধর্ম-মুক্ত রাজনীতি। পৃথিবীর যেখানে যেখানে রাজনীতি ধর্মমুক্ত হয়েছে, সেখানে সেখানে রাজনৈতিক হিংসা হানাহানি অনেক কমে গেছে। প্রতিষ্ঠিত হয়েছে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা, যা আধুনিকতার দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর দিকে তাকালেই বুঝতে পারা যায় ধর্মের সঙ্গে রাজনীতি সম্পর্কিত থাকলে কি ভয়ংকর রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়। বোঝা যায়, কীভাবে নিরবিচ্ছিন্ন অস্থিরতা ও রাজনৈতিক হিংসা এবং প্রতিহিংসার দাপটে একটা জাতি শতধাবিভক্ত হয়ে পড়ে। মূলত এ কারণেই, অসংখ্য ছোট ছোট, বলা ভালো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাষ্ট্রে বিভক্ত হয়ে পড়েছে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য। ফলে সাম্রাজ্যবাদী বৃহৎ রাষ্ট্রগুলোর নয়া সাম্রাজ্যবাদী নাগপাশ ...