নির্বাচন ২০২৬ ও বামপন্থীদের ভাবনার বিশ্লেষণ মানুষ, বিশেষ করে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণি তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে ভীষণভাবে ক্ষুব্ধ। খুব্ধ হওয়ার নিশ্চিত কিছু কারণও রয়েছে। এই কারণে মধ্যবিত্ত শ্রেণি তৃণমূলের পক্ষ ত্যাগ করার কথা ভাবছে। ফলে বামপন্থীদের সমর্থন বাড়ছে। অন্য দিকে এই সুযোগে বিজেপিও ক্ষমতায় আসার স্বপ্ন দেখছে। এখন এভাবে বামপন্থীরা যদি তাদের হারানো ভোট ফিরে পেতে শুরু করে, যা তৃণমূলের দিকে গিয়েছিল, তাহলে তৃণমূল সরকার নিশ্চিতভাবেই বিপদে পড়বে। সুতরাং সরকারি দল তৃণমূল খুব ভালো জায়গায় নেই। তবে হারবেই একথা নিশ্চিত করতে হলে বামপন্থীদের গুরুদায়িত্ব নিতে হবে। সে বিষয়ে পরে আসছি। তৃণমূলের একমাত্র ভরসা খেঁটে খাওয়া মানুষের সেই অংশ, যারা শিক্ষা-দীক্ষায় এগোতে পারছেন না, মানুষ হিসেবে তাদের অধিকার কতটা, সে সম্পর্কে যাদের সম্যক ধারণা বা চেতনা নেই, তারা। এই শ্রেণির মানুষের কাছে বিভিন্ন প্রকার ভাতা পাওয়াটা, তাদের ‘চাওয়ার’ চেয়েও অনেক ‘বেশি পাওয়ার’ সামিল। একথা অত্যন্ত সঠিক যে, ভাতা পাওয়াটা খেটে খাওয়া মানুষের একধরনের অধিকার। কারণ, ১) দেশের সম্পদের সৃষ্টি ও তাকে সংহত করার কাজটা একমাত্র ...
ধর্মের নামে রাজনীতিই প্রমাণ করে আমরা মধ্যযুগীয় ভারতবর্ষে এখনও যে ধর্মের নামে রাজনীতি হয় বা হচ্ছে, তাতেই প্রমাণ হয় আমরা আধুনিক নয়, চিন্তায়-চেতনায় এখনো মধ্যযুগে বাস করি। কারণ, আধুনিক যুগের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য আছে। কোন জাতি, নিজেকে আধুনিক বলে দাবি করতে চাইলে, এই বৈশিষ্ট্যগুলো তাদের মধ্যে থাকা প্রয়োজন। এর মধ্যে একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো হল ধর্ম-মুক্ত রাজনীতি। পৃথিবীর যেখানে যেখানে রাজনীতি ধর্মমুক্ত হয়েছে, সেখানে সেখানে রাজনৈতিক হিংসা হানাহানি অনেক কমে গেছে। প্রতিষ্ঠিত হয়েছে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা, যা আধুনিকতার দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর দিকে তাকালেই বুঝতে পারা যায় ধর্মের সঙ্গে রাজনীতি সম্পর্কিত থাকলে কি ভয়ংকর রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়। বোঝা যায়, কীভাবে নিরবিচ্ছিন্ন অস্থিরতা ও রাজনৈতিক হিংসা এবং প্রতিহিংসার দাপটে একটা জাতি শতধাবিভক্ত হয়ে পড়ে। মূলত এ কারণেই, অসংখ্য ছোট ছোট, বলা ভালো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাষ্ট্রে বিভক্ত হয়ে পড়েছে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য। ফলে সাম্রাজ্যবাদী বৃহৎ রাষ্ট্রগুলোর নয়া সাম্রাজ্যবাদী নাগপাশ ...