সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

আব্দুল গাফফার খান ও ইতিহাস বিকৃতি


এই কথাগুলো আবদুল গফফর খানের। আমি যতটা জানি। কথাটা একটু বিকৃত করা হয়েছে। মুসলিম শব্দটি ঢুকিয়ে দিয়ে।

যাঁরা বোদ্ধা মানুষ অর্থাৎ যাদের মধ্যে ইতিহাসবোধ আছে এবং ইতিহাসটাকে বিজ্ঞান হিসেবে দেখেন তারা এই চাতুরীটা ধরতে পারেন। সাধারণ মানুষ পারেন না।

বিজেপি এই সুযোগটাই নিতে চাইছে। আর এই সুযোগ নেয়ার জন্য 'মুসলিম' শব্দটা বিকৃতির উদ্দেশ্যই বিকৃতভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।

জালিয়ানওয়ালাবাগের হত্যাকান্ডের পর যখন দেশ উত্তাল, তখন জেনারেল ও'ডায়ার প্রচণ্ড চাপের মুখে পড়েছিলেন। তাই তিনি এই ঘটনাটিতে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার চেষ্টায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এবং তার যুক্তি ছিল যে, আমরা উন্মত্ত জনতাকে সামাল দিতে গিয়ে এই গুলি চালাতে বাধ্য হয়েছি।

জেনারেল ডায়ারের এই মিথ্যাচারের মুখোশ খুলে দেওয়ার জন্যই আব্দুল গাফফার খান প্রশ্ন তুলেছিলেন, জনতা যদি উন্মুক্ত হয়, তাকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য যদি গুলি চালাতেই হয়, তাহলে গুলিটা কোথায় লাগার কথা? লাগার কথা ছিল বুকে। এটাকে মাথায় রেখেই খান সাহেব জেলারেল  ও' ডায়ারকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন  যে, আপনি যদি একজনকেও দেখাতে পারেন, যার বুকে গুলি লেগেছে, তাহলে আমি আজাদীর লড়াই ছেড়ে দেবো।

এবং শেষ পর্যন্ত সব পোস্টমর্টেম রিপোর্টে পিছন দিক থেকে গুলি লাগার কথা লেখা ছিল।

এটাকেই বিকৃত করে বিজেপির আইটি সেল ফেসবুকে ছড়াচ্ছে।
---------------------------------------
প্রসঙ্গ জানতে এখানে ক্লিক করুন
আইটি সেলের প্রচার দেখুন নীচে।

জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকান্ডের সময় #খান_আব্দুল_গফফার_খান জেনারেল ও ডায়ার'কে বলেছিলেন যে "তুমি স্বাধীনতা সংগ্রামী একটাও মুসলিম লাশের পিঠে গুলি দেখিয়ে দাও, তাহলে আমি আজাদীর লড়াই থেকে দূরে সরে যাবো"।

টানা দু'দিন ধরে 76 টি লাশের পোস্টমর্টেম চালিয়ে, একটি লাশেরও গুলি পিঠে লাগা বের হয়নি। সব গুলি ছিল তাদের বুকে।

জয় হিন্দ
--------------------------- 

মন্তব্যসমূহ

আলী হোসেনের বহুল-পঠিত উক্তিগুলো পড়ুন